ছলচাতুরী ছেড়ে সিরাতাল মুস্তাকিমের পথে চলুন: শিবিরকে হামিম

ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সব ধরনের ছলচাতুরি ও বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি পরিহার করে ‘সিরাতাল মুস্তাকিমের’ পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, অন্যায় কাজকে ধর্মীয় পোশাক বা আবেগ দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা থেকে শিবিরকে সরে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে ঘিরে শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থীর স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ এবং তা নিয়ে সৃষ্ট হিজাব বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পোস্টে শেখ তানভীর বারী হামিম লেখেন, ধর্মীয় অনুভূতির মুখোমুখি অন্যায়কে দাঁড় করাতে যে মেধা অপচয় করছেন সে মেধা দিয়ে চাইলেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব ছিলো। অন্যায়কারীকে পোষাক দিয়ে জাস্টিফাই না করে এসব অন্যায় থেকে সরে আসুন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বহিরাগত এনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এর আগে একইদিন সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী মাহিমা আক্তারকে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। মাহিমা আক্তার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং হিজাব ও নিকাব পরিহিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার পরিচয় জানতে নিকাব ও মাস্ক খুলতে বলেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাস্থলে এক ধরনের ‘মব’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী মাহিমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে একজন আত্মীয়ও ছিলেন। হিজাব পরিহিত থাকার কারণে তাকে অযথা জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে শিবিরের শাখা সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, তার স্ত্রী বৈধভাবেই তাদের প্যানেলের পক্ষে কাজ করছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শিক্ষাঙ্গনে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সকল পক্ষকে সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন









