এবার ভাইরাল অডিও : এমপি নজরুলের কাবিননামা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবার ছড়িয়ে পড়েছে তার কথিত দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা নিবন্ধনকারী কাজী বাকী বিল্লাহর একটি অডিও ক্লিপ। ওই অডিওতে বিয়ে নিবন্ধনের সময়, কাবিননামায় স্বাক্ষর এবং কনের তথ্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে কাজী বাকী বিল্লাহকে বলতে শোনা যায়, কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ ফোনে বিয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সম্মতি দেন। পরে একই দিনের সকালে মরিয়ম খাতুন ও তার অভিভাবক তার কার্যালয়ে এসে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন।
অডিওতে আরও দাবি করা হয়, কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১৭ জুন উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় ২১ জুলাই। ফলে বিয়ের তারিখ ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কনের পরিচয় ও জন্মতারিখ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাজী বলেন, এসব তথ্য তাকে ফোনের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিয়ের সময় কনের বয়স ছিল ১৮ বছর ৩ মাস।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করেন এবং গোপনে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
তবে ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে ঘটনাস্থল, কথোপকথন এবং পুরো ঘটনার বর্ণনায় অসঙ্গতি দেখা যায়। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সম্মতিতে তিনি মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন। পরে পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রথম স্ত্রী, মরিয়ম খাতুন এবং কনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহও একই দাবি সমর্থন করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া কাজী বাকী বিল্লাহর অডিও ক্লিপে উঠে আসা বক্তব্যের পর বিয়ের তারিখ, কাবিননামা প্রস্তুতের সময় এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কাবিননামায় উল্লেখিত তথ্য এবং বাস্তবে স্বাক্ষর গ্রহণের সময়ের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ কিংবা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।








