ঘুষের টাকায় প্রকৌশলী মইনুলের বিলাসি জীবন

নিয়মিত যাতায়াত গুলশান-বনানীর পাঁচ তারকা হোটেলে। ব্যবহার করেন অর্ধ লাখ টাকার ঘড়ি। পরিবার ব্যবহার করে ৬৫ লাখ টাকার বিলাসবহুল গাড়ি। ড্রাইভারের বেতন ২৫ হাজার টাকা। অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা। তার মাসিক বেতন ৬০/৬৫ হাজার টাকার চেয়ে একটু বেশি।
বিজ্ঞাপন
এমন অভিযোগ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সরকারি বেতনের বাইরে বিলাসী জীবনযাপন ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ সূত্র বলছে, তার আয়ের সঙ্গে বাস্তব ব্যয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য নেই। মো. মইনুল ইসলামের অবৈধ আয় অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এই ব্যয় ও সম্পদের উৎস তার সরকারি আয়ের সঙ্গে মিলছে না। অভিযোগ অনুযায়ী তার একমাত্র সন্তান রাজধানীর ব্যয়বহুল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করছে, যেখানে মাসিক খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
রাজধানীতে আবাসন, পারিবারিক খরচ, ব্যক্তিগত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত বিমানযোগে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত তার ব্যয়কে সরকারি বেতনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি ক্রয় করেছেন প্রায় ৬৫ লাখ টাকার বিলাসবহুল গাড়ি। কুড়িগ্রামে নির্মাণাধীন ১০ একর জমির রিসোর্ট প্রকল্প তার পরিচালনায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে সূত্র বলছে, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কমিশন গ্রহণ, বিল পাস ও ভেরিয়েশন অনুমোদনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জনৈক বাকি বিল্লাহ নামে এক ব্যাক্তি দুদকে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন। তিনি তদন্তের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ঘোষিত আয় ও প্রকৃত ব্যয়ের তুলনামূলক অনেক বেশি। পরিবার ও সম্পদের উৎস যাচাই করা জরুরি। সরকারি দায়িত্বে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয় জোর দাবিও তুলেন তিনি। প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ ঘটনায় মো. মইনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয় অপরাধ বিশেষজ্ঞ রাজু আহমেদ শাহ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার জীবনযাত্রার মান তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়াই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। কিন্তু যদি কোনো কর্মকর্তা তাঁর বেতনের সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত বিলাসী ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করেন, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতির সন্দেহ সৃষ্টি করে। এ ধরনের অসঙ্গতি জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিজ্ঞাপন
সুতরাং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।








