নির্বাচনী প্রচারণায় কৃষি সম্প্রসারণের ৬ কর্মকর্তা

পাবনার চাটমোহরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণ বিধি লংঘন করে প্রচারণা ও জনসংযোগ করার অভিযোগ উঠেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৬ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর ২৫ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অথবা অন্যত্র কোনো আইনসভার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অথবা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা বা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপ করা বা প্রভাব খাটাতে পারবেন না।
সরাসরি আইনের ব্যত্তয় ঘটিয়ে পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটাখালি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৬ কর্মকর্তাকে। তাদেরকে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ করতে দেখা গেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা কোনো পক্ষের হয়ে নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনবিধিকে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে তারা সরাসরি নির্বাচনী জনসংযোগ ও প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. শাহেদ মোস্তফা স্বাক্ষরিত পত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা গত ২৩ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় ৭০ পাবনা-৩ আসনের চাটমোহর উপজেলার কাটাখালি বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সাথে নির্বাচনী জনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সিনিয়র সচিবকে অবহিত করেছেন।
প্রচারণায় অংশ না নিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালাতেও নির্দেশনা আছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫–এর ২০ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিবর্গের নির্বাচনী প্রচারণা, সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ—তাহাদের নিজের বা অন্যের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি যানবাহন, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। এ উদ্দেশ্যে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না।’
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা হলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হটিকালচার উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপপরিচালক (ফুল ও ফল) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. মুরাদুল হাসান, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (রুলস, পলিসি ও পরীক্ষাগার) সাব্বির আহমেদ, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (বালাইনাশক মান নিয়ন্ত্রণ) মো. মাজেদুর রহমান ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল মমিন।
বিজ্ঞাপন
আচরণ বিধি লংঘন করে নির্বাচনী প্রচারণায় নামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই ৬ কর্মকর্তা। তারা নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন বলে তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, সরকারি কর্মকর্তারা কোনো পক্ষের হয়ে নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন না। সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কোনো পক্ষ অবলম্বন করে প্রচার প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হটিকালচার উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক (ফুল ও ফল) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী মুঠোফোনে জনবাণীকে বলেন, ঐ দিন পাবনায় হটিকালচার সেন্টার পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আমি কোন নির্বাচনী জনসংযোগে অংশ নেয়নি, এটা উদ্দেশ্যে প্রনোদিত।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনে আচরণবিধি লংঘনের বিষয়ে জানতে প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. মুরাদুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনি আমার অফিসে আসেন কথা বলবো।








