Logo

সিদ্ধিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা

profile picture
বশির হোসেন খান
৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৮:৪০
সিদ্ধিগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর সিদ্ধিগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর চেয়ারে বসতে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান (পরিচিতি নং ১১১৩০) এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বি এম মিজানুল হাসানের দিকে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় সংস্থার ভেতরে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে দুইজনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিপিডিসির একাধিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন অভিযোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রকৌশলীদের অভিযোগ, মো. মাসুদুর রহমান ডিপিডিসিতে যোগদানের পর থেকে তার প্রায় প্রতিটি বদলি ও পদায়ন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে তৎপর রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে অতীতে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ডিপিডিসির এমডি বি এম মিজানুল হাসানের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে মো. মাসুদুর রহমান এসব সুবিধা আদায় করেছেন। কয়েকজন ব্যক্তি দুদকে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে সিদ্ধিগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন আবার তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দিতে দুই কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী, টানা ১৭ বছর সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপুর আশীর্বাদে মো. মাসুদুর রহমান ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশন অ্যান্ড লাইন উন্নয়ন-১ প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে তাকে একই চেয়ারে দীর্ঘদিন বহাল রাখা হয়েছিল।

সাবেক এমডি বিকাশ দেওয়ান ও সাবেক এমডি আব্দুল্লাহ নোমানের সময়েও তিনি ওই পদে ছিলেন। গত জানুয়ারি মাসে মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি অফিস আদেশে তাকে দুইবার বদলি করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি উন্নয়ন-১ দপ্তর থেকে ডিপিডিসির স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন প্রকল্পে বদলি করা হয়। এর মাত্র ছয় দিন পর, ১৪ জানুয়ারি, ১৫ লাখ টাকা দিয়ে নতুন এমডিকে ‘ম্যানেজ’ করে পছন্দের কর্মস্থল সিদ্ধিগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তিনি ওই চেয়ারে বহাল ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী অভিযোগ করে বলেন, “নতুন এমডি যোগদানের পর থেকেই টাকার নেশায় ব্যস্ত। টাকার বিনিময়ে মাসুদুর রহমানকে সিদ্ধিগঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন আবার তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বানাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে দুদকের তদন্তেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

ডিপিডিসির সিদ্ধিগঞ্জ ডিভিশনের নির্বাহী মোঃ মাসুদুর রহমানের মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে ডিপিডিসির এমডি বি এম মিজানুল হাসান বলেন, আমি ঘুষ খেয়েছি ভালো করেছি। জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করেন। এর চেয়ে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD