Logo

লাইনম্যান ফিরোজ অবৈধ বিদুৎ সংযোগের মাষ্টার

profile picture
বশির হোসেন খান
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৪৯
লাইনম্যান ফিরোজ অবৈধ বিদুৎ সংযোগের মাষ্টার
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

ঘুষ, অবৈধ সংযোগ ও বিল জালিয়াতির মাধ্যমে বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার ফাঁকা করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর ডিপিডিসির মাতুয়াইল ডিভিশনে কর্মরত লাইনম্যান মো. ফিরোজ শেখ (আইডি: ২১২৮৩) এর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি রাজধানীর একাধিক এনওসিএস বিদ্যুৎ অফিসকে পরিণত করেছেন দুর্নীতির নিরাপদ আশ্রয়ে।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বের অপব্যবহার করে তিনি মাতুয়াইল ডিভিশনে এনওসিএস বিদ্যুৎ অফিসে একটি শক্তিশালী দুর্নীতির বলয় গড়ে তুলেছেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ ছাড়া ফাইল নিষ্পত্তি না করা, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সেই সংযোগ পুনরায় চালু করা হতো। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিনিময়ে বিদ্যুৎ বিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে ডিপিডিসি ও জাতীয় রাজস্বের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গ্রাহক প্রস্তাবে রাজি না হলে তাদের ওপর দুই থেকে তিন গুণ বেশি বিল চাপিয়ে দেওয়া, মামলা ও জরিমানার ভয় দেখানোর ঘটনাও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ লোডের এস.টি সংযোগ নিতে সরকারিভাবে যেখানে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা, সেখানে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অতিরিক্ত অর্থের বড় অংশই লাইনম্যান মো. ফিরোজ শেখ এর নেতৃত্বে ডিপিডিসির প্রধান কার্যলয়ে বড় কর্তাকে দিতেন বলে জানা গেছে। মাতুয়াইল ডিভিশনের নুর উর জামান নামের এক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার ভাড়ার নিয়ম ভেঙে ভাড়া মওকুফ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় জানাজানি হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার তালুকদারকে ম্যানেজ করেই ধামাচাপা দেন তিনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে সোলার প্যানেল কিনতে গ্রাহকদের বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার পরও সোলার স্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি নতুন সংযোগ পেতে হলে তার মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ‘রেট’ অনুযায়ী অর্থ দিতে হতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “লাইন সংযোগ, মিটার সেটিং, বিল সংশোধন কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তি কোনো কাজই টাকা ছাড়া হয় না। এই ডিভিশনে যা কিছু হয়, সবই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে।” অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ফিরোজ শেখের নামে অটো রিকশা ও হালকা যানবাহনের মালিকানার তথ্য রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এগুলো মূলত ঘুষের টাকা ঘোরানোর একটি মাধ্যম।

বিজ্ঞাপন

ডিপিডিসির মাতুয়াইল ডিভিশনে কর্মরত লাইনম্যান মো. ফিরোজ শেখ এর মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়ে উত্তর মেলেনি।

এ বিষয় ডিপিডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার তালুকদারকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে প্রভাবশালী চক্রের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD