Logo

পচা ডিম-বাসি রুটির পাহাড়, তবুও দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে স্কুল ফিডিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ, ২০২৬, ১৬:৩৬
পচা ডিম-বাসি রুটির পাহাড়, তবুও দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে স্কুল ফিডিং
ফাইল ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে শুরু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতা ও অনিয়মের মুখোমুখি হচ্ছে। তবু সরকার আগামী জুন-জুলাই মাস থেকেই এই কর্মসূচি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ডিম, দুধ, বিস্কুট, বনরুটি ও ফলসহ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় পচা বা কাঁচা ডিম, মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি এবং নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মাঠপর্যায়ে খাবারের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

উত্তরাঞ্চলের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, যদিও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বনরুটি, ডিম ও কলা দেওয়া হয়, তবু সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি এক ঘটনায় উল্লেখ করেন, বনরুটির প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ভবিষ্যতের লেখা ছিল, যা দুই দিন আগেই দেওয়ার তথ্য হিসেবে ধরা হয়েছিল। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পচা ডিম, কাঁচা ডিম এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা কম মানের রুটির সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যন্ত এলাকায় খাবার সময়মতো পৌঁছানো না গেলে শিশুরা খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান শিক্ষকরা জানান, অনেক সময় সরবরাহে অনিয়ম এবং নিম্নমানের খাবারের কারণে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।

বিজ্ঞাপন

একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, কিছু জায়গায় মান ঠিক থাকলেও অনেক সময় কাঁচা ডিম বা অতিরিক্ত পাকা ফল দেওয়া হয়। প্রকল্পটি চমৎকার হলেও তদারকি না থাকলে এর মূল উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে না।

কর্মসূচি ও খাদ্যতালিকা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় ১৫০ উপজেলার ১৯,৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩১ লাখ শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা তিনটি অংশে— ইউএইচটি দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট, এবং ফুড বাস্কেট (বনরুটি, ডিম ও ফল)—টেন্ডারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে টেন্ডার জট এবং আইনি জটিলতার কারণে নিয়মিত সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বিস্কুট সরবরাহ নিয়ে সাতটি বিভাগে মামলা চলমান থাকায় কার্যক্রম কিছু অংশে স্থগিত রয়েছে।

সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবস শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়— ফর্টিফাইড বিস্কুট, মৌসুমি ফল, বনরুটি, ডিম এবং ইউএইচটি দুধ। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর প্রয়োজনীয় এনার্জি, প্রোটিন, ফ্যাট এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অংশ নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অনিয়ম মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ, কম ওজনের পাউরুটি বা নষ্ট ফল শিক্ষার্থীরা কখনোই পাবেন না।

সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য স্থানীয়ভাবে ডিম ও ফল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) তদারকিতে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন-জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলাকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নতুন ধাপের সঙ্গে সঙ্গে তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ফিডিং শুধু খাবারের কর্মসূচি নয়; এটি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ানোর একটি বড় উদ্যোগ। আমরা চাই দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এর সুফল ভোগ করুক।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD