অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের শেষ ভরসা লাইনম্যান ফিরোজ

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)-এর মাতুয়াইল ডিভিশনে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চললেও বেশির ভাগ সময়ই তা ধরা পড়ে না। মাঝেমধ্যে ধরা পড়লেও শাস্তি হয় না জড়িতদের।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, খোদ প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে লাইনম্যান মো. ফিরোজ শেখ (আইডি: ২১২৮৩) বিদ্যুৎ চুরির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিপত্তিতে পড়েছেন নিরাপত্তাকর্মীসহ অনেকেই। এই ডিভিশনে প্রতিদিন বিদ্যুৎ চুরির দুই লাখ টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে। ওই ডিভিশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হানিফ পাচ্ছেন আয়ের অর্ধেক।
অভিযোগ সূত্র বলছে, ঘুষ, অবৈধ সংযোগ ও বিল জালিয়াতিরসহ নতুন সংযোগ নিতে লাইনম্যান মো. ফিরোজ শেখ এর সঙ্গে চুক্তি করতে হয় গ্রাহকদের। তাছাড়া ৫০ কিলো লোডের বেশি সংযোগ নিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দপ্তর ম্যানেজ মাস্টার লাইনম্যান ফিরোজ। তাই গ্রাহক সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিদ্যুৎ সংযোগ মেলে না। লাইনম্যান ফিরোজই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাস্টার।
প্রতিদিন বিভিন্ন বাহানায় গ্রাহকের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করেন এই চক্র। সূত্র বলছে, মাতুয়াইল ডিভিশনে গ্রাহকের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে বেশি সুবিধা দেন একটি চক্র। লাইনম্যান ফিরোজের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি চক্র শতাধিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ মিটারে নানা কৌশলে টেকনিক্যাল চুরি করেন। এতে করে সরকার হারাচ্ছেন রাজস্ব।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি বিদ্যুৎ চুরির দায়ে অভিযুক্ত লাইনম্যান ফিরোজের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করেছেন ডিপিডিসি কতৃপক্ষ। কিন্তু ওই লানম্যান টাকার জোরে আটকে আছে তদন্ত। ইতোমধ্য ওই ডিভিশনের বড় কর্তার সঙ্গে চুক্তিবন্ধ হয়েছেন। তিনি ফিরোজে রক্ষা করে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পজিটিভ রিপোর্ট দিবে বলে চুক্তিবন্ধ হয়েছেন।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ চুরির চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে অনিহা প্রকাশ করলে এক লানম্যানকে ফিরোজ তার দল বল নিয়ে হামলা চালায়। ওই ঘটনা জেরে এক কর্মচারী হামলার শিকার হয়ে এই ডিভিশনে থাকতে পারেননি। বদলি হতে হয়েছে আরেক ডিভিশনে। নতুন কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেটের সদস্য না হয়ে বেশিদিন চাকরি করতে পারেন না এই ডিভিশনে।
সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটির লানম্যানকে ফিরোজ মাতুয়াইল ডিভিশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হানিফ এর ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি মাসে টাকা কালেকশন করেন তিনি। এর পরে সিন্ডিকেটের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, সরাসরি বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই লানম্যান ও মিটারম্যান। এদের পরোক্ষ সহায়তা করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হানিফ। কেউ এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। বিশেষ করে বেশ কিছু চুক্তিভিত্তিক মিটারম্যানরা নানা রকম ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
বিষয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।








