Logo

বদলির তিন মাস পরও পুরোনো পদে বনি আমিন

profile picture
মো. রুবেল হোসেন
২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৫৬
বদলির তিন মাস পরও পুরোনো পদে বনি আমিন
ছবি: পত্রিকা থেকে নেওয়া।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) বনি আমিন খান বদলির আদেশ জারির তিন মাস পার হলেও নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তিনি এখনো আগের পদেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ-১ শাখা গত ১ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে হর্টিকালচার উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (ফুল ও ফল) হিসেবে বদলি করে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদনে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ প্রসঙ্গে বনি আমিন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বদলির পরও দায়িত্বে বহাল থাকার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে একটি প্রশাসনিক আদেশকে ঘিরে। গত ২ এপ্রিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সই করা এক অফিস আদেশে ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদর্শনী স্টল প্রস্তুত ও ব্যবস্থাপনার জন্য ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে ষষ্ঠ সদস্য হিসেবে রাখা হয় বনি আমিন খানকে, যেখানে তার পদবি উল্লেখ করা হয়েছে আগেরটিই।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কৃষক কার্ড কার্যক্রমকে ঘিরে তার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। একটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, ওই চক্র বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায় করেছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে এ অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বনি আমিন খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি অধিদপ্তরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। অতীতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থাকাকালে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে যন্ত্রপাতি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সে বিষয়ে তদন্ত হলেও শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুই ধাপে প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন বলেও সূত্র জানায়।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বদলি বা স্ট্যান্ড রিলিজের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। অনেকেই আগের কর্মস্থলেই অবস্থান করছেন বা তদবিরের মাধ্যমে বদলির আদেশ বাতিলের চেষ্টা করছেন। এতে দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকায় সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, প্রশাসনের দুর্বলতা ও সমন্বয় ঘাটতির কারণেই বদলি আদেশ বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখা যায়। কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল জোরদার না হলে এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।

সরকারি সার্ভিস রুল অনুযায়ী, বদলি আদেশের পর একজন কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ ছয় দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগ না দিলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে রিলিজ লেটার ইস্যুতে বিলম্ব হওয়ায় যোগদানে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ জনবাণী কে বলেন, বদলি আদেশ বাস্তবায়নে কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD