বিআইডব্লিউটিএ’র নারী শিকারই আক্তারের ফাঁদ

ক্ষমতা যখন নৈতিকতার সীমারেখা অতিক্রম করে, তখন মানুষকে নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্ক যখন প্রলোভন, আবেগ, নির্ভরতা ও ভয়কে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, তখন সেটিই রূপ নিতে পারে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এ।
বিজ্ঞাপন
বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া নদী বন্দর অফিসের মুদ্রাক্ষরিক মো. আক্তার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ গুলোতে এমনই এক অস্বস্তিকর চিত্র সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথম নম্বর আদান প্রদান এর পরেই কোটিপ্রতি বানানোর ফাঁদে ফেলে সুন্দরী নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন আক্তার হোসেন। শুরু হয় প্রেমের জমকালো আড্ডা। তার পর ওই সব নারীদের বাসায় গিয়ে রাত কাটানো বিনিময়ে ১৪০০ স্কয়ার ফ্ল্যাট ও আইফোন, আবার কাউকে প্রিমিও জি মডেলের ৪০ লাখ টাকার দামি গাড়ি উপহার দিয়ে মনোরঞ্জন করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে শিলা নামে ২২ বছরের এক নারী নারায়গঞ্জ চাষারা থেকে কাজে সন্ধানে ঢাকায় আসতেন। ভুলে একদিন শিলার ফোন থেকে আক্তার হোসেনের নম্বরে একটি মিস কল আসলে। এর পরই শুরু হয় দুই জনের মধ্যে কথোপকথন। কিছু দিন যেতে না যেতেই চাকরি কথা বলে শিলা ঢাকার একটি বাসায় নিয়ে জোর করে ধর্ষন করেন আক্তার হোসেন। পরে ভয়ভীতি ও বিয়ের কথা বলে প্রায় ঢাকায় এনে একেক দিন একেক বাসায় নিয়ে মনোরঞ্জন করেন আক্তার। ওই নারীকে বিয়ে করবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার বাসায় গিয়ে মঝে মধ্যেই রাত যাপন করতেন।
একদিন হঠাৎ নারায়নগঞ্জের চাষারা শিলার বাসায় স্থানীয়রা আক্তার হোসেকে উলঙ্গ অবস্থায় ধরেন। পরে তারাই সেই উলঙ্গ ভিডিও ধারন করেন। দুই কান ধরে ভিডিওতে আক্তার হোসেনকে বলতে শোনা যায় আমাকে মাপ করে দেন। আমার ভুল হয়েছে। আমার স্ত্রী সন্তান আছে। আমার স্ত্রী একজন সরকারী চাকরিজীবী। আমি শিলাও বিয়ে করবো। তার পরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সটকে পড়েন আক্তার হোসেন। শুধু শিলা নয়, এভাবে মানিয়া, তানিয়া, ফারিয়াসহ বিআইডব্লিউটিএ’তে কর্মরত সহকর্মীদের বোনও ছাড় পাইনি আক্তার হোসেনের ছোবল থেকে। অভিযোগের বর্ণনায় যে প্রবণতাটি সবচেয়ে বেশি উঠে আসে, তা হলো প্রথমে তৈরি হয় আস্থার পরিবেশ, এরপর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ব্যক্তিগত নির্ভরতা।
বিজ্ঞাপন
কথিত এই প্রক্রিয়ায় একজন দুর্বল বা সংকটাপন্ন মানুষকে অতিরিক্ত সহানুভূতি, সহযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে গড়ে উঠে আক্তারের বলয়।
অসহায়ত্বকে পুঁজি: পারিবারিক সংকট, দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ কিংবা আর্থিক অনিশ্চয়তার সময় মানুষকে টার্গেট করে আক্তার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কথিত হানিট্র্যাপের ক্ষেত্রে এই দুর্বলতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্তার হোসেন একের পর এক নারীকে ফাঁদে ফেলে মনোরঞ্জনের শিকার করেন।
এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র পারর্সেস ডির্পাটমেন্টের উচ্চমান সহকারি সিনথিয়া বলেন, আমার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নাই। “আমি বিবাহিত, আক্তার হোসেন ভাইয়ের সঙ্গে চাকরি করি। তবে আমার বাসায় আসা-যাওয়া করেন। আমার বোনের সঙ্গে তার পরিচয় আছে। তবে তাদের মধ্য কোনো সম্পর্ক আছে কিনা আমি জানি না।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমি নারীদেও ফাঁদে ফেলি না। সব ষড়যন্ত্র। আমি চাষারায় আটক হয়েছিলাম এটা সত্য। শিলা আমার খুব কাছের।
উলঙ্গ ভিডিওর বিষয় তিনি বলেন, ওটা আমার ছবি। নানা ঘটনা আছে এক সময় বলবো।








