Logo

মালয়েশিয়ায় পারি জমাচ্ছেন বিআইএমের পিডি তানভীর

profile picture
মো. রুবেল হোসেন
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৪৩
মালয়েশিয়ায় পারি জমাচ্ছেন বিআইএমের পিডি তানভীর
বিআইএমের পিডি তানভীর।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টকে শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের কাজ খাতা কলমে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার আড়াই বছরের অধিককাল অতিবাহিত হলেও সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত প্রকল্প বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হননি প্রকল্প পরিচালক তানভীর হোসাইন। প্রকল্পটি যাত্রা শুরুর পর থেকে নানা ভাবে আর্থক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বির্তকের জন্মদেয় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কে শক্তিশালীকরণ প্রকল্প শুরু করে সরকার, যার প্রাথমিক বাজেট ছিল প্রায় ১৪৭ কোটি টাকা। এরমধ্যে ভবন নির্মাণ ৮৫ কোটি, প্রশিক্ষণ ও বিদেশ ভ্রমণ বাবদ ৬২ কোটি টাকা। ৬২ কোটি টাকার মধ্য থেকে ৫৬ কোটি টাকা ভবন নির্মাণ খাতে প্রতিস্থাপন করলেও তা কোথায় ব্যয় করা হয়েছে তার কোন হদিস নেই। ২০২২ সালে আরও ১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনে তাতে সব মিলে প্রকল্প ব্যয় দাড়ায় ১৫৪ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়েছে।

সিন্ডিকেটের পকেটে প্রকল্পের বরাদ্দ

প্রকল্পের শুরুতে তানভীর হোসাইন উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে প্রেষণে যোগ দেন। পরে পতিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের অনুকূল্যে তিনি প্রকল্প পরিচালকের চেয়ার বাগিয়ে নেন। এছাড়াও প্রকল্পটি ছিল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, সফটওয়্যার ও গবেষণাগার সরঞ্জাম ক্রয় ইত্যাদি নিয়ে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগ, কেনাকাটা ও ঠিকাদারদের কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি অনিয়ম হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি প্রকল্পের বড় অংশের বরাদ্দ ভাগ হয়ে গেছে সিন্ডিকেটের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা স্থায়ী রাজস্ব খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রকল্প সমাপ্তির পর পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৩ মাসের মধ্যে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) জমা দেওয়া, সম্পদ ও যানবাহন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তর এবং অপারেশনাল দায়িত্ব রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অথচ গত ৭ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশ থেকে জানা যায়, প্রকল্পটির সর্বশেষ প্রকল্প পরিচালক ও বিআইএমের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা তানভীর হোসাইন প্রকল্পটি সরকারকে বুঝিয়ে না দিয়ে ৩ বছরের জন্য স্কলারশিপ নিয়ে মালেশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামীক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য যাচ্ছেন। সরকারি দায়িত্ব অবহেলা করে কিভাবে তিনি স্কলারশিপ নিচ্ছেন তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

এ প্রসঙ্গে বিআইএমকে শক্তিশালী করণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা তানভীর হোসাইনের সাথে একের অধিকবার তার অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি এমনকি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও তা তিনি রিসিভ করেন নি।

মসজিদের নামে অর্থ আত্মসাৎ

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ২৪ মার্চ ট্রেনিং কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের মাতা ফারহানা দিবা। প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। বিআইএমের মেইন গেট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বেজমেন্টসহ ১২ তলা ভবনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী মসজিদ তৈরির জন্য বরাদ্দ ছিল পরবর্তীতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের মাধ্যমে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি বাদ দিলেও মসজিদের কার্পেট বাবদ ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রকল্প পরিচালক তানভীর হোসাইন।

প্রসঙ্গটি নিয়ে বিআইএমের পরিচালক (অর্থ) প্রকৌশলী মো. মেহবুব হাসান কল্লোল দৈনিক জনবাণী কে বলেন, প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ক্রয়কৃত মালামাল বুঝে নেওয়ার কাজ চলছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে বুঝে নেওয়ার বিধান থাকলেও দুই বছরের অধিককাল পর কেন বুঝে নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি বুঝে নিতে সময় লাগছে, কোন কোন সময় প্রকল্প বুঝে নিতে দুই থেকে পাঁচ বছরও সময় লাগতে পারে।

বাজার মূল্য থেকে চারগুণ বেশি দামে কমট ক্রয়

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রায় শত কোটি টাকার দৃষ্টিনন্দন ভবনে বিভিন্ন দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, একের অধিক স্থান দিয়ে ভবনটিতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে। সরেজমিন অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ১০ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এছাড়াও ভবনের ওয়াশরুমের কমট ক্রয় করা হয়েছে বাজার দর থেকে ৪ গুনেরও বেশি দামে। আরএকে কোম্পানির আরএকে-মর্নিং রিমলেস মডেলের প্রতিটি কমট ক্রয় করা হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার টাকা দরে কিন্তু বাজার যাচাই করে দেখা যায় এই কমটের দাম মাত্র ১২ হাজার ৩৫০ টাকা। সূত্র জানায়, এমন অনেক অসংগতি মূলত মূল্য সংযোজন করে প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের সাথে মহাপরিচালকের লুকোচুরি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহর দপ্তরে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গেলে তিনি অফিসে অবস্থান করেও চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দৈনিক জনবাণী কে মুঠোফোনে জানান, "সচিবালয়ে মিটিংয়ে আছেন"। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মহাপরিচালকের এমন লুকোচুরি সরকারের জবাবদিহিতার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,, "এ ধরনের আচরণ মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন সাংবাদিকতা, বাকস্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের প্রতি সরাসরি হুমকি" বিআইএম শক্তিশালী করণ প্রকল্পের পিসিআর জমা না দেওয়া প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান দৈনিক জনবাণী কে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি যেনে ব্যবস্থা নেব।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD