Logo

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আউয়ালের রক্তচক্ষুর নিশানায় সাংবাদিক

profile picture
রাজু আহম্মেদ শাহ্
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৩৫
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আউয়ালের রক্তচক্ষুর নিশানায় সাংবাদিক
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আউয়াল। ফাইল ছবি

আব্দুল আউয়াল ছিলেন লোপাটের কারিগর বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য। ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। সেই দাপটে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আর্শিবাদে ভাগ্য খুলে যায়। কৌশলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে বসেন। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভয়াবহ দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের পরও বহাল তরিয়াতে তিনি। এই চেয়ারে এতো মধু। যে আব্দুল আউয়ালকে এই চেয়ারে রাখতে হবে। তিনি যখন পদোন্নতি পান তখন মন্ত্রনালয়ের যোগ্যতার তালিকায় তার নাম ছিলো না।

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ করে তার নাম তালিকায় স্থান পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকৌশলীদের প্রশ্ন কি এমন জাদু। তালিকা থেকে বাদ পরা নাম কিভাবে উঠে। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় তিনি পরিণত হন জনস্বাস্থ্যে মাফিয়া হিসেবে। অপরাধ বিশ্লেষকরা তাকে ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আব্দুল আউয়ালের আচরণ স্বৈরাচারে রূপ নিয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। এখন তিনি জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের ডিঙিয়ে প্রধান প্রকৌশলী চেয়ারে বসেছেন কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে।

তাহলে স্বৈরাচারী প্রকৌশলীর দাপট এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে। গত কয়েকদিনে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের প্রতিহত করতে কঠোর রক্তচক্ষু জনস্বাস্থ্যর প্রধান প্রকৌশলীর। ইতোমধ্য তিনি তার দপ্তরে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। টার্গেট এখন সাংবাদিক। সত্যকে আড়াল করতে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় রাজধানীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাতে একটি বাহিনী গঠন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সত্য উদ্ঘাটন ঠেকাতে ও বিভিন্ন অনিয়ম আড়াল করতে তিনি একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে ব্যবহার করছেন। এই বাহিনীর হাতে ইতোমধ্যে সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত হওয়ারও সত্যতা মিলেছে।

বিজ্ঞাপন

এমনকি একটি জাতীয় দৈনিকের ডিজিটালের সাংবাদিক জান্নাতুর রহমান পাপ্পার ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টাও করেছে তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক বাংলামটর এলাকায় অফিসের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর পরই প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের পক্ষে আসাদ নামের এক প্রতিনিধি ওই সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেন। এমনকি মামলা দিয়ে রিমান্ডে এনে নির্যাতনের হুমকি দেন। এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা বলেন, এমন হামলা ও হুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে এবং রাষ্ট্রের সুশাসনের জন্যও এটি অশনিসংকেত।

এক সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “সত্য তুলে ধরাই আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু আজ যারা সত্য প্রকাশে এগিয়ে যাচ্ছে, তারাই হুমকি আর সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।”

সাংবাদিক মহলের দাবি, প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া বেশ কয়েকটি টেন্ডারে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার বাস্তবায়নের সময় পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের অনিয়মে জড়িয়ে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা বলেন, সত্য গোপন রাখতে এই দুর্নীতিবিরোধী প্রতিবেদনগুলোকে দমন করতেই তিনি সংবাদকর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন। “সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানে সত্যের ওপর হামলা। প্রশাসনের মধ্যে থাকা কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।” অবিলম্বে ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার জবাবদিহি, এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালের মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD