Logo

উজিরপুর প্রকৌশলী সুব্রতর এবার টার্গেট কবরস্থান

profile picture
মো. বাকি বিল্লাহ
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২২:৪১
উজিরপুর প্রকৌশলী সুব্রতর এবার টার্গেট কবরস্থান
প্রকৌশলী সুব্রতর এবার টার্গেট কবরস্থানF।

এক পাশে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, অন্য পাশে কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি ধারণ করে থাকা পারিবারিক কবরস্থান। মাঝখানে নির্মাণের অপেক্ষায় সংযোগ সড়ক। আর সেই সংযোগ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করেই এবার পারিবারিক কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার চাপ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে বরিশালের উজিরপুরে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। জমির মালিকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর তরদের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে পারিবারিক কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে। সরিয়ে না নিলে কবরস্থান গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

আঃ রব, মাসুমসহ একাধিক জমির মালিক জানান, গত ২৮ আগস্ট ধামুরার এনায়েত শরীফসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের পক্ষে এসে তাদের ওপর চাপ ও হুমকি দেন। এ সময় পারিবারিক কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ওই কবরস্থানে তাদের বাবা-মা ও পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা পারিবারিকভাবে কবরস্থানটি সংরক্ষণ করে আসছেন। ফলে কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার চাপ তাদের কাছে শুধু জমির প্রশ্ন নয়, বরং পারিবারিক স্মৃতি ও মর্যাদার সঙ্গে জড়িত বিষয়।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন,“বাবা-মায়ের কবর সরিয়ে কোনো উন্নয়ন আমরা চাই না। জমি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করতে হবে এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামুড়া-শোলক সড়কে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় জমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। জমির মালিকদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আইনানুগভাবে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। অথচ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে তাদের জমির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমির প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জমির মালিকরা। একই সঙ্গে পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি মানবিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD