Logo

হার মানাবে বলিউডহলিউডের চিত্রনাট্যকেও ডিপিডিসি’র শত কোটি টাকা লুটের গল্প

profile picture
বিশেষ প্রতিবেদক
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২:৩৪
হার মানাবে বলিউডহলিউডের চিত্রনাট্যকেও ডিপিডিসি’র শত কোটি টাকা লুটের গল্প
ফাইল ছবি।

সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগ উঠবে, তদন্ত হবে, নথি খুলবে, হিসাব মিলবে। দোষ প্রমাণিত হলে শাস্তিও হবে। কিন্তু ডিপিডিসির জিটুজি প্রকল্পের ১৩২ কেভি কেবল সামগ্রী নিয়ে যে শত কোটি টাকা লুটের’ গল্প সামনে এসেছে, তার কাহিনি এতটাই নাটকীয় যে বলিউড-হলিউডের চিত্রনাট্যকারেরাও হয়তো একটু ঈর্ষা করতে পারেন। কারণ গল্পের শুরুতেই একটি ছোট সমস্যা আছে। সেটি হলো ক্যালেন্ডার। যে রিভিউ কমিটিকে ঘিরে অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে, সেই কমিটি গঠিত হয় ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর।

বিজ্ঞাপন

এক মাস পর, ২৯ নভেম্বর কমিটি ঠিকাদারের সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউসে গিয়ে দেখে, ৪৫তম ব্যাচের ৬৯ সেটের মধ্যে পড়ে আছে মাত্র ৮ সেট। বাকি ৬১ সেট ইতোমধ্যে ওয়্যারহাউস থেকে ইস্যু হয়ে ডিপিডিসির বিভিন্ন সাইটে ব্যবহারের জন্য চলে গেছে। কমিটি প্রতিবেদন দেয় আরও পরে, ২১ ডিসেম্বর। কমিটি গঠনের আগেই অধিকাংশ মালামাল ওয়্যারহাউস ছেড়ে গেলে, পরের কমিটি সেই ব্যবহারের দায় নেবে কীভাবে? সরকারি চাকরিতে অনেক কিছুই সম্ভব। তবে সময়ের কাঁটা উল্টো দিকে ঘোরানোর ক্ষমতা সম্ভবত এখনও কোনো কমিটিকে দেওয়া হয়নি।

জার্মানির পণ্য চীন ঘুরলেই কি ‘চায়না’: এবার টেকনিক্যাল জায়গাটি দেখা যাক। ম্যানুফ্যাকচারার টিই কানেক্টিভিটি ২০২২ সালের ২ নভেম্বর লিখিত ডিক্লারেশনে জানিয়েছে, ৭২ কেভি থেকে ১৭০ কেভি ভোল্টেজ লেভেলের হাই ভোল্টেজ সামগ্রী জার্মানির টাইকো ইলেকট্রনিক্স রেচেম জিএমবিএইচ

ফ্যাক্টরিতে প্রোডিউসড, ম্যানুফ্যাকচার্ড এবং রুটিন টেস্টেড।

বিজ্ঞাপন

পোল্যান্ড তাদের লজিস্টিকস, কিটিং অ্যান্ড ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার। একই ডিক্লারেশনে সংশ্লিষ্ট হাই ভোল্টেজ কেবল সামগ্রী কিটসের কান্ট্রি অব অরিজিন জার্মানি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে শিপিং ডকুমেন্টসে রয়েছে পোল্যান্ড-চায়না-বাংলাদেশ রুট। অর্থাৎ কান্ট্রি অব অরিজিন জার্মানি, শিপমেন্ট রুটের একটি অংশ চায়না।

ঢাকার একজন মানুষ দোহা হয়ে নিউইয়র্ক গেলে তাঁর জন্মস্থান যেমন কাতার হয়ে যায় না, জার্মান প্রোডাক্ট চায়না ঘুরে এলেই তার কান্ট্রি অব অরিজিন চায়না হয়ে যাওয়ার কথা নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ, এগুলো বাজার থেকে তুলে আনা সাধারণ পণ্য নয়; ডিপিডিসির অ্যাপ্রুভড টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাস্টমাইজড হাই ভোল্টেজ কিটস। ম্যানুফ্যাকচারারের তথ্য অনুযায়ী এ ধরনের হাই ভোল্টেজ কিটস চায়নায় উৎপাদনের ফ্যাসিলিটিও তাদের নেই।

তাহলে আগের কমিটি চায়নায় রি-প্যাকিংয়ের সময় কম্পোনেন্ট পরিবর্তনের যে ‘আশঙ্কা’ করেছিল, তার টেকনিক্যাল ফাউন্ডেশন কী ছিল? আশঙ্কা করা যায়। কিন্তু ম্যানুফ্যাকচারারের প্রোডাকশন ডিক্লারেশন, এফএটি, সিরিয়াল নম্বর এবং কাস্টমাইজড স্পেসিফিকেশনের বিপরীতে সেই আশঙ্কাকে সিদ্ধান্তে রূপ দিতে হলে সমপর্যায়ের টেকনিক্যাল প্রমানও প্রয়োজন। বর্তমান কমিটি তাই আশঙ্কা উড়িয়ে না দিয়ে ওয়্যারহাউসে ডাইরেক্ট শিপমেন্ট ও ট্রান্সশিপমেন্টের প্যাকেজ পাশাপাশি রেখে ম্যানুফ্যাকচারার্স নেমপ্লেট, প্যাকিং লিস্ট, মেজর কম্পোনেন্টস ও কম্পোনেন্ট কোয়ান্টিটি পরীক্ষা করে। সিরিয়াল নম্বরও ম্যানুফ্যাকচারারের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। আশঙ্কাই যদি প্রমাণ হতো, আদালতের চেয়ে চায়ের দোকানেই বিচার অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যেত।

বিজ্ঞাপন

এগারো কোটির পন্য শত কোটি লুট: এবার গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ অঙ্কটি দেখা যাক। নথিতে ৪৫তম ব্যাচের ৬৯ সেট কেবল অ্যাকসেসরিজের কনট্রাক্ট ভ্যালু

আট লাখ বিরাশি হাজার ছয়শ তেরো ডলার পঞ্চাশ সেন্ট। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরলেও পুরো ব্যাচের মূল্য প্রায় ১০.৮ কোটি টাকা। অথচ অভিযোগের অঙ্ক শত কোটি টাকা! অর্থাৎ যে ব্যাচের সম্পূর্ণ কনট্রাক্ট ভ্যালুই প্রায় ১১ কোটি টাকা, সেটিকে ঘিরে প্রায় নয় গুণ অর্থ ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ কীভাবে দাঁড়াল? আরও মজার অঙ্ক আছে। কমিটি সরেজমিনে যাওয়ার সময় ৬৯টির মধ্যে ৬১ সেটই ওয়্যারহাউস ছেড়ে গেছে। সব সেটের মূল্য সমান ধরে আনুপাতিক হিসাবে অবশিষ্ট ৮ সেটের মূল্য প্রায় এক লাখ দুই হাজার তিনশ বত্রিশ মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় সোয়া কোটি টাকা। সোয়া কোটি টাকার অবশিষ্ট পন্য পরীক্ষা করতে যাওয়া কমিটির সঙ্গে ‘শত কোটি টাকা লুটের’ যোগসূত্র কীভাবে তৈরি হলো, তার হিসাব প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। কোন চালান রশিদে শত কোটি? কোন পেমেন্ট সার্টিফিকেটে? রাষ্ট্রের ক্ষতি কোথায়? মানি ট্রেইলই বা কোথায়? অঙ্কের একটা সুবিধা আছে। সে বক্তৃতা বোঝে না, রাজনীতি বোঝে না। যোগ করলে যোগফলটাই দেয়।

অনুমতি আগে, কমিটি পরে: আরেকটি প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। চায়না হয়ে শিপমেন্টের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) যথাযথ কর্তৃপক্ষ আগেই ইস্যু করেছিল। সেই অনুমোদিত প্রক্রিয়াতেই ইপিসি কনট্রাক্টর মালামাল বাংলাদেশে এনেছে। বর্তমান রিভিউ কমিটি শিপমেন্ট রুট নির্ধারণ করেনি, আইপিও দেয়নি।

বিজ্ঞাপন

কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার আগেই ইমপোর্ট ও শিপমেন্ট সম্পন্ন; ৬৯ সেটের ৬১ সেটও ওয়্যারহাউস থেকে বেরিয়ে গেছে। কমিটির দায়িত্ব ছিল চুক্তিপত্র অ্যাপ্রুভড আইপি, পিএসআই সার্টিফিকেট অব অরিজিন, শিপিং ডকুমেন্টস, আগের কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং সরেজমিনের তথ্য যাচাই করে পেশাগত মতামত দেওয়া। সেই মতামতও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল না। বিষয়টি পরে ডিপিডিসির ৩৫৫তম বোর্ড মিটিংয়ে পর্যালোচিত হয়ে সুরক্ষা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হয়।

রিভিউ কমিটির আহ্বায়ক ও ডিপিডিসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) প্রকৌশলী মোরশেদ আলম খানও অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “শিপমেন্টের অনুমোদন হলো, ইমপোর্ট পারমিটও ইস্যু হলো, মালামালও ব্যবহারে চলে গেল। রিভিউ কমিটি এলো তারও পরে। অথচ শেষ পর্যন্ত পুরো ঘটনার দায় কমিটির ঘাড়ে! বিস্মিত না হয়ে উপায় কী?”

সুবিধা দিতে গিয়ে পুরো মূল্যের ব্যাংক গ্যারান্টি: গল্পটি আরেক জায়গায় এসে হোঁচট খায়। ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়াই যদি কমিটির উদ্দেশ্য হতো, তাহলে বিদ্যমান ওয়ারেন্টির বাইরে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি এবং ৬৯ সেট পন্যার পূর্ণ কনট্রাক্ট ভ্যালুর সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি নিশ্চিত করার মতো কঠোর শর্ত আরোপের সুপারিশ কেন করা হলো? অর্থাৎ যে পন্য নিয়ে প্রশ্ন, তার পুরো মূল্যই আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সেই কমিটিই।

বিজ্ঞাপন

ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার এমন পদ্ধতি সত্যিই অভিনব। সাধারণত সুবিধা দিলে দায় কমে; এখানে উল্টো ঠিকাদারের দায় ও রাষ্ট্রের আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জনগণ তাই ভাবতেই পারেন, এমন কমিটি দিয়ে আরও ‘অনিয়ম’ যাচাই করালে রাষ্ট্রের স্বার্থ হয়তো আরও সুরক্ষিত হবে। তবে কনট্রাক্টের বাইরে ইপিসি কনট্রাক্টরের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপালে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কী বার্তা যায়, সেটিও ভাবতে হবে।

এবার গল্প নয়, হিসাবটা দেখা যাক: দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত হোক। দায়ী হলে শাস্তিও হোক। কিন্তু অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়। তাই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। কমিটি গঠনের আগেই ৬১ সেট পন্য ওয়্যারহাউস থেকে বের হলো কীভাবে? চায়না হয়ে শিপমেন্টের আইপি যখন আগেই ইস্যু হয়েছিল, তার দায় পরবর্তী রিভিউ কমিটির ওপর আসে কীভাবে? ম্যানুফ্যাকচারারের জার্মানি অরিজিন ডিক্লারেশনের বিপরীতে ‘চায়না অরিজিন’ বলার টেকনিক্যাল এভিডেন্স কোথায়? ডিপিডিসির কাস্টমাইজড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী তৈরি এসব ইকুইপমেন্ট নিয়ে আগের কমিটি কোন টেকনিক্যাল প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহ করেছিল?

এগুলো তো বাজার থেকে কেনা একই মডেলের সিদান গাড়ি বা এসইউভি নয়, যে রং-চাকা মিললেই একটি সরিয়ে আরেকটি বসিয়ে দেওয়া যাবে। আর প্রায় ১১ কোটি টাকার পুরো ব্যাচ ঘিরে ‘শত কোটি টাকা লুটের’ হিসাবই বা কীভাবে দাঁড়াল? সেই অর্থের মানি ট্রেইল কোথায়? একজন কর্মকর্তা নথি দেখবেন, সরেজমিনে পন্য পরীক্ষা করবেন, ম্যানুফ্যাকচারারের ডিক্লারেশন ও সিরিয়াল নম্বর যাচাই করবেন, তারপর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় বাড়তি পাঁচ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি এবং পুরো কনট্রাক্ট ভ্যালুর ব্যাংক গ্যারান্টি চাইবেন; এরপরও যদি তাঁর নামের পাশে ‘শত কোটি লুট’ বসে যায়, তাহলে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে সবচেয়ে নিরাপদ পথ একদিন হয়তো একটাই থাকবে: কোনো সিদ্ধান্তই না নেওয়া। আর একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পকে অচল করতে এর চেয়ে কার্যকর উপায় খুব বেশি লাগে না।

বিজ্ঞাপন

দায় যার, শাস্তি তারই হোক। কিন্তু এই গল্পের অঙ্কটা বড় অদ্ভুত। আনুমানিক ১১ কোটি টাকার ৬৯ সেটের ৬১ সেট যখন আগেই ডিপিডিসির সিস্টেমে বসে গেছে, তখন মঞ্চে প্রবেশ রিভিউ কমিটির। সামনে পড়ে মাত্র ৮ সেট, আনুমানিক মূল্য সোয়া কোটি টাকা। অথচ পর্দা নামার ঠিক আগে তাদের ঘাড়েই এসে পড়ে ‘শত কোটি টাকা লুটের’ দায়! ক্যালেন্ডার যদি পেছনে হাঁটে, সোয়া কোটি যদি এক লাফে শত কোটি হয়, আর আশঙ্কাই যদি প্রমাণ হয়ে যায়, তাহলে বলিউড-হলিউডের চিত্রনাট্যকারদেরও হয়তো নতুন করে গল্প লেখা শিখতে হবে। কিন্তু সিনেমার গল্প আর রাষ্ট্রের গল্প এক নয়।

এমন অভিযোগের পর একজন সৎ টেকনিক্যাল কর্মকর্তা যদি পরেরবার কোনো জটিল ফাইলে মতামত দেওয়ার আগে ভাববেন, ‘ফাইলটা না ধরাই নিরাপদ’, সেটিই হবে আসল বিপদ। তখন কেউ ঝুঁকি নেবে না, কেউ সিদ্ধান্ত নেবে না; সবাই শুধু ফাইলটি পরের টেবিলে ঠেলে দিয়ে নিজের চেয়ার বাঁচাবে। বলিউড-হলিউডে শেষ দৃশ্যের পর পর্দা নামে, আলো জ্বলে। রাষ্ট্রের মঞ্চে পর্দা নামানোর সুযোগ নেই। এখানে সিদ্ধান্ত থামলে প্রকল্প থামে, প্রকল্প থামলে উন্নয়ন থামে। তাই নাটকটা সিনেমাতেই থাক; রাষ্ট্র চলুক নথি, অঙ্ক আর প্রমাণে।

ঠিকাদারকে ‘সুবিধা’ দেওয়ার জন্য তার দায় আরও পাঁচ বছর বাড়ানো এবং পুরো টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি চাওয়া বেশ অভিনব সুবিধাই বলতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এটি সাধারণ কোনো স্থানীয় কেনাকাটা নয়; বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার কাঠামোর একটি উন্নয়ন প্রকল্প, যেখানে চীন সরকারের ঋণসহায়তায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে এমন একটি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ তদন্ত যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তি ও উদ্দেশ্য যাচাই করাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশেষ করে নথির অঙ্ক, পণ্যের মূল্য ও কারিগরি তথ্যের সঙ্গে অভিযোগের বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, অভিযোগটি কি তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা থেকে এসেছে, নাকি জেনেশুনেই একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে? তাই কর্তৃপক্ষের উচিত শুধু যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাঁদের ভূমিকা নয়, অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতাও খতিয়ে দেখা।

প্রায় ১১ কোটি টাকার একটি ব্যাচকে কীভাবে ‘শত কোটি টাকা লুট’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলো, তার ব্যাখ্যাও প্রয়োজন। যদি অভিযোগের পেছনে সৎ উদ্বেগ থাকে, তদন্তেই তা পরিষ্কার হবে। আবার যদি দেখা যায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে একটি সরকার-টু-সরকার প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তাহলে এর পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ ছিল কি না এবং এর মাধ্যমে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগকে অযথা জটিলতায় ফেলার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানের বাইরে থাকা উচিত নয়। কারণ দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্যই তদন্তযোগ্য; একইভাবে গুরুতর অভিযোগের উৎস, ভিত্তি ও উদ্দেশ্যও জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD