২০ লাখ টাকায় পদ বাগানোর গুঞ্জন, ফায়ার সার্ভিসে মামুনুর রশিদকে ঘিরে বিতর্ক

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক মামুনুর রশিদকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম এবং সম্পদের উৎস নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে আসীন হওয়ার চেষ্টা করার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন মামুনুর রশিদ। নিজের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বোনের প্রভাব ব্যবহার করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ফায়ার সার্ভিসের তৎকালীন মহাপরিচালকের মাধ্যমে ক্রয় ও স্টোর শাখায় পদায়নের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় সংসদ সদস্য বোনকে সঙ্গে নিয়ে তদবির করেছিলেন মামুনুর রশিদ। ওই যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্রয় ও স্টোর শাখার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
বিজ্ঞাপন
ক্রয় ও স্টোর শাখায় দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার, কেনাকাটা, সরকারি মালামাল ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি অভিযোগগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে আর্থিক লেনদেনের চেষ্টার কথাও সামনে এসেছে।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্টোর শাখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কী কারণে তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি উঠেছে।
টেন্ডার কার্যক্রম ও সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক
বিজ্ঞাপন
সাবেক সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পছন্দের এজেন্ট ও ঠিকাদারদের মাধ্যমে টেন্ডার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি রাজধানীতে চার থেকে পাঁচটি ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিকানা অর্জনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং তাঁর ঘোষিত বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সম্পদ বিবরণী, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আবারও অধিদপ্তরের প্রশাসনিক বলয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন মামুনুর রশিদ—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর নতুন করে পদায়ন হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে তাঁকে বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
২০ লাখ টাকার গুঞ্জন, কার প্রভাবে পদায়নের চেষ্টা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অতীতের অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না। ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে পদ বাগিয়ে নেওয়ার যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেটির সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দাবি উঠেছে—মামুনুর রশিদের অতীতের পদায়ন, ক্রয় ও স্টোর শাখার কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।








