ইডকলে হিলফুল-ফুজুল’র ঋণ জালিয়াতি, রাষ্ট্রের অপচয় দেড় হাজার কোটি টাকা

ঋণ জালিয়াতি, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) বিভিন্ন খাতের ঋণ আদায় পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে বকেয়া ঋণের শতভাগই শ্রেণিবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরনো বিতর্কিত সিন্ডিকেট বহাল রেখে নতুন ‘ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার’ (ডিআরএস) কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
তাদের দাবি, ইডকলের পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন না করলে নতুন কর্মসূচির সফলতা আশা করা কঠিন। তাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) কর্মসূচিতে রাষ্ট্রের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এসএইচএস কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সময়ে ৪৪টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। ঋণ আদায় পরিস্থিতির অবনতির কারণে বকেয়া ঋণের সুদের হার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হয়। কিন্তু সুদ মওকুফ করেও ঋণ আদায়ে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। বরং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইডকল মোট ঋণগ্রহীতার ৪৮৯ কোটি টাকা ঋণ মওকুফের অনুমোদন দিয়েছে। এরপরও এসএইচএস কর্মসূচির অবশিষ্ট বকেয়া ঋণের ১০০ শতাংশ শ্রেণিবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে সোলার ইরিগেশন পাম্প কর্মসূচির ৬৭ শতাংশ এবং বায়োগ্যাস কর্মসূচির ৭৯ শতাংশ ঋণ শ্রেণিবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
যেসব ঋণ থেকে অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে বিবেচিত হয়েছে, সেসব ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ইডকলের হিসাবখাতা ও স্থিতিপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত কার্যকর জামানত না থাকাও আদায় ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। ফলে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ, সুদের হার শূন্যে নামিয়ে আনা, শত শত কোটি টাকা মওকুফ এবং অবশিষ্ট বকেয়া ঋণের সম্পূর্ণ অংশ শ্রেণিবদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনা ইডকলের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার গুরুতর দুর্বলতা প্রকাশ করছে।
ইডকলের এসএইচএস কর্মসূচির সবচেয়ে আলোচিত অনিয়মের ঘটনা হিলফুল ফুজুল সমাজকল্যাণ সংস্থার (এইচএফএসকেএস) ঋণ বিতরণ। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংস্থাটিকে ৯৭টি কিস্তিতে ১৩৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়া হয়। সুদ ও অন্যান্য হিসাবসহ সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী, ঋণের দায় বেড়ে ১৪৯ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এই ঋণ বিতরণে নজিরবিহীন অনিয়ম, চুক্তি লঙ্ঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে দুর্নীতি ও জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানা গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রাথমিক ঋণ অনুমোদন থেকে শুরু করে অর্থ ছাড়ের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ম ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইডকলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০০৯ সালের চুক্তি অনুসারে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এইচএফএসকেএসের ঋণসীমা ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে ৬২টি কিস্তিতে সংস্থাটিকে ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ছাড় করা হয়।
একইভাবে, ২০১২ সালের চুক্তিতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নতুন চুক্তি বা বৈধ অনুমোদন ছাড়াই ২০১৪ সাল পর্যন্ত অর্থ ছাড় অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণের অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে এভাবে অর্থ ছাড়ের ঘটনা ইডকলের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
ঋণের অর্থ ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ে প্রকৃতপক্ষে কতসংখ্যক সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণও ইডকলের নথিতে পাওয়া যায়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, সোলার হোম সিস্টেম বিক্রির পর অন্তত ১০ শতাংশ গ্রাহকের বাড়ি সরেজমিনে পরিদর্শন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু নথিপত্রে গ্রাহকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা, সোলার সিস্টেমের সিরিয়াল নম্বর এবং ডাউন-পেমেন্টের নির্ভরযোগ্য সমন্বিত রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ফলে বাস্তবে সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছিল, নাকি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ইডকলের ১২৯তম ও ১৬৩তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণের বিপরীতে স্থায়ী ও অস্থায়ী সম্পত্তি বন্ধক, পরিচালকদের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, থার্ড পার্টি করপোরেট গ্যারান্টি এবং জমি মর্টগেজ রাখার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সংশোধিত চুক্তিগুলো থেকে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত এসব জামানতের সিংহভাগ বাদ দেওয়া হয় বলে নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে। এমনকি চুক্তিতে নামমাত্র যেসব জামানতের উল্লেখ ছিল, সেগুলো বাস্তবে গ্রহণ, নিবন্ধন কিংবা আইনগতভাবে কার্যকর করার পর্যাপ্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ফলে শত কোটি টাকার সরকারি ঋণ কার্যকর জামানত ছাড়াই বিতরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জামানত নিশ্চিত না করে ঋণ বিতরণের কারণেই বর্তমানে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঋণ পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল অনুমোদিত বিজনেস প্ল্যান এবং প্রতিবছর বার্ষিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন। কিন্তু ইডকলের নথিপত্রে এইচএফএসকেএসের কোনো বিজনেস প্ল্যান কিংবা বার্ষিক কার্যক্রম মূল্যায়নের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এমনকি প্রথম বছর ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা কিংবা প্রয়োজনীয় নিজস্ব মূলধন (ইকুইটি) সংস্থাটির ছিল কি না, তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অডিট রিপোর্ট ও লেজার বুকও ইডকলের ফাইলে পাওয়া যায়নি। এত গুরুত্বপূর্ণ নথি ছাড়াই কীভাবে বছরের পর বছর ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিলফুল ফুজুলের ঋণ বিতরণে ইডকলের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান এনামুল করিম পাভেলের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নথি অনুযায়ী, অর্থ ছাড়-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থ ছাড়ের পূর্বশর্ত, অংশগ্রহণ চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা এবং অর্থায়ন চুক্তির সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। অথচ পর্যালোচিত নথিতে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত জামানতের অধিকাংশ পরবর্তী সংশোধিত চুক্তি থেকে বাদ পড়ার তথ্য রয়েছে। জামানত গ্রহণ, নিবন্ধন ও আইনগত কার্যকারিতারও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে ২০০৯ সালের চুক্তিতে বাধ্যতামূলক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং বার্ষিক কার্যক্রম মূল্যায়নের শর্ত পূরণের পর্যাপ্ত নথি পাওয়া যায়নি।
এর বাইরে ৩ হাজার ৩৬২টি সোলার হোম সিস্টেমের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছিল মাত্র ১৭১টি, যা প্রায় ৫ শতাংশ। অথচ নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ১০ শতাংশ বা প্রায় ৩৩৬টি সিস্টেম পরিদর্শনের কথা ছিল।
জামানত, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বার্ষিক মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনÑএতগুলো ক্ষেত্রে শর্তপূরণের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও পাভেল কোন নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে সব শর্ত পূরণের প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, হিলফুল ফুজুলের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, ওই সময়ে ইডকলের ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন অনেক কর্মকর্তাকে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পাভেলের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ডেপুটেশনে ইডকলের হেড অব রিনিউয়েবল এনার্জি পদে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল করিম পাভেল। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও তিনি একাধিক পদোন্নতি পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইডকলে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। তার আত্মীয়তার সূত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
ইডকলের কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার দাবি, পাভেলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই বলয়ের বাইরে গিয়ে কোনো উদ্যোক্তার পক্ষে অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, কোনো উদ্যোক্তা নতুন প্রকল্প নিয়ে ইডকলে গেলে তাকে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্কিউব টেকনোলজিস লিমিটেডসহ হাতে গোনা দুই-তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হতো। কেউ এতে সম্মতি না দিলে তার ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ঝুলে থাকত। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৩০১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭৬টি রুফটপ সোলার প্রকল্পে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি প্রকল্পে ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে আওয়ামী লীগ নেতা মখা আলমগীরের ভাগনের প্রতিষ্ঠান স্কিউব। যা মোট অনুমোদিত সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুমোদিত রুফটপ সোলার প্রকল্পের ৪১ শতাংশেরও বেশি কাজ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে প্রায় দুই শতাধিক ইপিসি প্রতিষ্ঠান থাকার পরও কেন সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে অধিকাংশ কাজ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, প্রকল্পের অর্থায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
বিজ্ঞাপন
ইডকলের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আরও কিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এনামুল করিম পাভেলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একই প্রতিষ্ঠানকে একদিকে ঋণগ্রহীতা এবং অন্যদিকে স্বাধীন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়ন নীতিমালা ও স্বার্থের সংঘাত-সংক্রান্ত শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ভুয়া বা অকার্যকর বন্ধক রেখে ঋণ বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণের অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে অটোবি, ক্লিকবিডিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইডকলের শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এতে সৌরবিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ইডকলের নথিতে ২৩৭টি সোলার সিস্টেমের বিপরীতে দ্বৈত অর্থায়নের অভিযোগও রয়েছে। একই গ্রাহকের সোলার প্যানেলের সিরিয়াল নম্বর পরিবর্তন করে একই সিস্টেমের বিপরীতে একাধিকবার অর্থায়নের দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জরিমানা এবং পরবর্তী অর্থ ছাড় থেকে অর্থ সমন্বয়ের তথ্যও নথিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ইডকলের প্রকল্প যাচাই, পর্যবেক্ষণ ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে সরকার সৌরবিদ্যুতের প্রসারে নতুন করে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইডকলের মাধ্যমে ‘ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার’ বা ডিআরএস কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ খাতে অর্থায়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতিও চলছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, অতীতের ঋণ জালিয়াতি, অকার্যকর জামানত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বহাল থাকলে নতুন কর্মসূচিও একই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তাদের মতে, অতীতের অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঠিকাদার নির্বাচনে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না, আগে ইডকলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে। অন্যথায় অতীতের মতো নতুন কর্মসূচিতেও সরকারি অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের কয়েকজন উদ্যোক্তার মতে, ইডকলের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাবশালী বলয়ের কারণে প্রকৃত উদ্যোক্তারা অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ঋণ অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, নতুন ডিআরএস কর্মসূচির সফলতা নিশ্চিত করতে হলে ইডকলের পুরনো ঋণ অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
একইভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এনামুল করিম পাভেল এর মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।








