নারী ফুটবলারদের বেতন ১০০ ভাগ বাড়ানোর চেষ্টা করছি: ক্রীড়া উপদেষ্টা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিয়মিত সাফল্য আনছেন নারী ফুটবলাররা। অথচ নারী ফুটবলাররাই আর্থিকভাবে তেমন একটা সাবলম্বী নন। এশিয়া কাপ নিশ্চিত করা আফিদা-ঋতুপর্ণাদের মাসিক বেতন মাত্র ৫৫ হাজার। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা মনে করেন, এটি দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় টিম এডভাইজার ও ডিপ্লোম্যাটদের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ হয়। বিগত দুই ম্যাচের মধ্যে একটি বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা ও আরেকটি কূটনীতিকরা জেতায় তৃতীয় ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী। সেই ম্যাচ নির্ধারিত সময় ড্র থাকায় টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকদের সমন্বয়ে গড়া দল জয়লাভ করে।
প্রীতি ম্যাচ শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের বেতনের বিষয়টি এসেছে। তিনি বলেন, ‘বেতন দেয়ার বিষয়টি বাফুফে ও বিসিবির হাতে। আমরা বাফুফে ও বিসিবি উভয়কে নারী খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলা। বিসিবি ইতোমধ্যে নারী খেলোয়াড়দের ট্যুর ফি ও ভাতা পুরুষদের সমান করেছে এবং বেতনও ৩৫ শতাংশ বাড়িয়েছে।’
আরও পড়ুন: লিটনের ফিফটিতে সহজ জয় বাংলাদেশের
বিজ্ঞাপন
বিসিবির আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও বাফুফের নেই। তাই বাফুফে নারী ফুটবলারদের বেতন বাড়াতে পারেনি এখনো। এ নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘নারী ফুটবলারদের বেতন অনেক কম। তাদের শতভাগ বৃদ্ধির নির্দেশনা দিয়েছি। বাফুফে এটার জন্য ফান্ডের কথা বলেছে আমাদের। আমরা চেষ্টা করছি তাদের ফান্ড দেয়ার।’
অর্ন্তবর্তকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া দায়িত্ব নেয়ার পর ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য এনে ক্রীড়াবিদদের আর্থিক বোনাস প্রদান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় এশিয়ান আরচ্যারিতে পদক জয়ী আরচ্যাররা ব্রোঞ্জ জেতায় ১০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। প্রায় একই সময়ে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টিটিতে রৌপ্য, ভারত্তোলন ও উশুতে ব্রোঞ্জ এবং কাবাডি বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জিতেছে। এদেরকেও পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন আজ, ‘আন্তর্জাতিক পদক আনার জন্য ইনসেটিভ দিচ্ছি, এটাও হবে। এতে তারা উৎসাহিত হবেন।’ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ২২ বছর পর জেতায় ২ কোটি টাকা বোনাস ঘোষনা করেছিলেন উপদেষ্টা। ফেডারেশনে কাছে মন্ত্রণালয় তালিকা চেয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর চেক ইস্যু করবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের গঠিত সার্চ কমিটির দুই জন অলিম্পিক এসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর অলিম্পিকের নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে। আজ কিংস অ্যারেনায় অলিম্পিকের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘অলিম্পিকের গাইডলাইন অনুযায়ী অলিম্পিক এসোসিয়েশন চলে। সেখানে আমাদের কিছু করার থাকে না। সেখানে আমি শুনেছি, অনেককে প্রার্থী হতে বাধা দেয়া হয়েছে, এটা দুঃখজনক । বাফুফে কিংবা বিসিবি নির্বাচনে এই অভিযোগ আসেনি,এত প্রার্থী ছিল সেখানে। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট। যারা আসলে কাউন্সিলর বা কমিটি ঠিক করেন তারাই নির্বাচন করা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট হয় কি না এজন্য অলিম্পিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সম্প্রতি সকল ফেডারেশনে চিঠি দিয়েছে খেলোয়াড়দের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার জন্য। খেলোয়াড়রা সেই নির্দেশনা না মানলে কি হবে এ নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের রাজনীতির দলাদলির উর্ধ্বে রাখতে চাই। এজন্যই এই নির্দেশনা। এরপরও যদি কেউ করে তাহলে আমরা ফেডারেশনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলব।’
হামজা-সামিত আসার পর বাংলাদেশের ফুটবলের আগ্রহ আবার ফিরেছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারী ধারণ ক্ষমতা মাত্র ২০ হাজার। তাই ৫০ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের, ‘আমরা ইতোমধ্যে রাজউক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। যেন ৪৫ ও ৫০ হাজার ধারণ ক্ষমতা স্টেডিয়াম নির্মাণ করা যায় পূর্বাচলে একশ একর জমির মধ্যে।’ এই সময় পাশে থাকা বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরি বলেন, ‘পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মাধ্যমেও কিছু করা সম্ভব। পূর্বাচলে মন্ত্রণালয় জায়গা চেয়েছে আমরা এটার ইনভেস্টমেন্ট কেস পর্যালোচনা করে দেখব এটা কমপ্লেক্স করা যায় কিনা।’








