বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় ক্রিকেটারদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করল পাকিস্তান

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশার ধারেকাছেও যেতে না পারায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, জাতীয় দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, খেলোয়াড়দের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—এখন থেকে পুরস্কার ও আর্থিক সুবিধা সম্পূর্ণভাবে পারফরম্যান্সনির্ভর হবে। অতীত সুনাম বা তারকাখ্যাতির ভিত্তিতে কোনো বিশেষ সুবিধা মিলবে না। ভালো খেললে বোনাস, খারাপ খেললে জবাবদিহি—এই নীতিতেই এগোবে বোর্ড।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয় অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অল্পের জন্য পরাজয় এড়ায় দল। পরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালেও ভারতের বিপক্ষে আবারও পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটে। স্পিন-সহায়ক কন্ডিশনে প্রত্যাশা থাকলেও ফল আসে উল্টো।
বিজ্ঞাপন
নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠে পাকিস্তান। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সমীকরণ জটিল হয়ে পড়ে। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পারেনি দল; নিউজিল্যান্ড এগিয়ে যায় শেষ চারে। সেখানেই থামে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা।
২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নির্ধারিত রয়েছে চার ক্যাটাগরিতে—
এ ক্যাটাগরি: মাসিক ৪৫ লাখ রুপি + আইসিসি আয়ের অংশ ২০ লাখ ৭০ হাজার রুপি, বি ক্যাটাগরি: মাসিক ৩০ লাখ রুপি + আইসিসি অংশ ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ রুপি, সি ক্যাটাগরি: মাসিক ১০ লাখ রুপি + আইসিসি অংশ ১০ লাখ ৩৫ হাজার রুপি, ডি ক্যাটাগরি: মাসিক ৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি + আইসিসি অংশ ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ রুপি।
বিজ্ঞাপন
বোর্ডের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, এসব সুবিধা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
ব্যাট হাতে ফারহান ছিলেন দলের সেরা, তার সংগ্রহ ৩৮৩ রান। কিন্তু সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা, বাবর আজম ও উসমান খান কেউই ১০০ রানের মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। বোলিংয়ে স্পিনার উসমান তারিক ১০ উইকেট নিয়ে উজ্জ্বল থাকলেও সামগ্রিকভাবে আক্রমণভাগ ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
দলের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রধান কোচ মাইক হেসন এর ভূমিকা ও টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে। অধিনায়ক সালমান আলি আগার নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং—দুই ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শাদাব খানও পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
বিশ্বকাপের আগে ফখর জামানকে শুরুর একাদশে না রাখা নিয়েও আলোচনা আছে। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ৮৪ রান করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন—তবে ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে।
বোর্ড কর্মকর্তারা সমর্থকদের হতাশা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পারফরম্যান্সের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিশ্বকাপ শেষ হলেও পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনার অধ্যায়।
বিজ্ঞাপন
সূত্র- দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন








