টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝে বাবা হারালেন রিঙ্কু সিং

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে পারিবারিক শোকের মুখোমুখি হলেন ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি সাময়িকভাবে দলের ক্যাম্প ছেড়ে বাড়িতে গেলেও, শেষ পর্যন্ত বাবাকে হারানোর বেদনাই সঙ্গী হলো তার।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রিঙ্কুর বাবা খানচাঁড় সিং। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারতের সাবেক অফ স্পিনার হারভাজান সিং।
সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়ে হারভাজান লেখেন, রিঙ্কু সিংয়ের বাবা শ্রী খানচাঁড় সিংজির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্বকাপের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রিঙ্কু কঠিন সময় পার করছেন উল্লেখ করে তার ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, চতুর্থ পর্যায়ের ক্যান্সারে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন খানচাঁড় সিং। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থাকা রিঙ্কু ছুটি নিয়ে বাবার পাশে ছুটে যান।
তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তিনি আবার দলে যোগ দেন। টুর্নামেন্টের আগের পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামা ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার ওই ম্যাচে একাদশে না থাকলেও ডাগআউটে ছিলেন এবং বদলি হিসেবে ফিল্ডিং করেন। পরে দুঃসংবাদ পেয়ে আবার পরিবারের কাছে ফিরে যান।
রিঙ্কুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে তার বাবার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। উত্তর প্রদেশের আলিগড়ে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন খানচাঁড় সিং। আর্থিক সংকটের মধ্যেই পাঁচ সন্তানকে বড় করেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী রিঙ্কুকে শুরুতে বকাঝকা করলেও পরে তার স্বপ্ন পূরণে সব ধরনের সমর্থন দেন বাবা।
বিজ্ঞাপন
সংসারের চাপে কখনো ঝাড়ুদারের কাজও করেছেন রিঙ্কু। পরিবারের খরচ ও ছেলের ক্রিকেট ক্যারিয়ার চালিয়ে নিতে ধারদেনাও করতে হয়েছে বাবাকে। ক্রিকেট খেলে সামান্য অর্থ পেলেই তা বাবার হাতে তুলে দিতেন রিঙ্কু।
পরবর্তীতে আইপিএলে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি এবং জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। তবে ছেলের সাফল্যের পুরোটা উপভোগ করার সুযোগ আর হলো না তার বাবার।








