Logo

ঋতুপর্ণাকে ঘিরে সতর্ক উত্তর কোরিয়ার কোচ

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮
ঋতুপর্ণাকে ঘিরে সতর্ক উত্তর কোরিয়ার কোচ
ছবি: সংগৃহীত

নারী নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী ফুটবল দল এবং সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল।

বিজ্ঞাপন

অংশ নেওয়া ১২ দলের মধ্যে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দলও উত্তর কোরিয়া (৭)। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হয়েও বাংলাদেশের কয়েকজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে নিয়ে চিন্তিত তাদের কোচ।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার কোচ স্বীকার করেন, বাংলাদেশকে তিনি আগে যতটা ভেবেছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী মনে হয়েছে। বিশেষ করে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স তাকে মুগ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বেশ দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরের সময় তারা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা খুব দ্রুতগতির। ট্রানজিশন মুহূর্তে তারা বেশ দক্ষ। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারে।”

বাংলাদেশের কয়েকজন আক্রমণভাগের ফুটবলার উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় হুমকি হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী ঋতুপর্ণা চাকমাকে আলাদা করে নজরে রাখার কথা জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার কোচ রি সন হো।

তিনি বলেন, “আমি মূলত আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনক মনে করি। এর মধ্যে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়টির (ঋতুপর্ণা) দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে। তিনি বাম প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণে উঠতে পারেন।”

বিজ্ঞাপন

চীনের বিপক্ষেও বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলেছিল। ম্যাচের ১৪ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা দ্রুতগতিতে বল দখল করে দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন। গোল হলে সেটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারত বলেই মনে করছেন অনেকেই।

যদিও অন্য দুই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের নাম সরাসরি বলেননি উত্তর কোরিয়ার কোচ, তবুও বাংলাদেশের আক্রমণের গতি তাকে ভাবাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের গতি সত্যিই বেশি। আক্রমণ এবং রক্ষণ—দুই ক্ষেত্রেই তাদের দ্রুততা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই তাদের থামাতে আমাদের ডিফেন্সকে আরও মনোযোগী হতে হবে।”

১২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে তিনটি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী ম্যাচে যদি চীন নারী ফুটবল দল এবং উত্তর কোরিয়া নারী ফুটবল দল জয় পায়, তাহলে দুই দলেরই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। তখন গ্রুপসেরা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাদের পারস্পরিক ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন

গোল ব্যবধান বাড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার কৌশল আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, তারা মূলত প্রতিটি ম্যাচ জেতার দিকেই মনোযোগী। “আমাদের লক্ষ্য তিনটি ম্যাচই জেতা। শুধু গোল ব্যবধানের হিসাব করে খেলার পরিকল্পনা নেই,” বলেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার দল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া অন্য দলগুলোর জন্য বরাবরই কঠিন। বাংলাদেশের কোচকেও খুব সীমিত ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। তবে এটিকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখাতে চান না কোচ রি সন হো। তার মতে, প্রায় এক দশক পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার কারণে তার দলটিও অনেকটা নতুনের মতোই।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, আগে পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি করছে।

শেষে মজার একটি কথাও জানান তিনি। প্রথমবার বাংলাদেশের নাম শুনে তার মনে পড়েছিল দেশের আরেক জনপ্রিয় খেলার কথা—ক্রিকেট। তবে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন, ফুটবলেও বাংলাদেশ এখন এশিয়ার শক্তিশালী দল হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD