Logo

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২ মে, ২০২৬, ১৭:৪৩
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আজ পরিণত হয় উৎসবমুখর ক্রীড়া প্রাঙ্গণে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, শিশু-কিশোরদের মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রদর্শনী, কড়া নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল এক ভিন্ন আবহ। সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেশের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের নতুন উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২ মে) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দেশের সব জেলা স্টেডিয়ামের খুদে ক্রীড়াবিদরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল, যা একসময় অসংখ্য প্রতিভাবান শিল্পী তৈরি করেছিল। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম এবার ফিরে এসেছে ক্রীড়াঙ্গনের নতুন রূপে—মঞ্চ থেকে মাঠে। শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, যেখানে লক্ষ্য দেশের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া তারকাদের খুঁজে বের করা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগের ৩২ জন শীর্ষ খেলোয়াড় উপস্থিত ছিলেন, যারা এই উদ্যোগের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অংশ নেন। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলায় অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়রা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দিতে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ক্রীড়া কার্ড চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অ্যাথলেটরা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে নির্বাচনী ইশতেহারেই এটি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, ক্রীড়াভাতা ও ক্রীড়া কার্ড চালুর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে সিলেটকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই ঢাকার বাইরে থেকে এই আয়োজন শুরু করা হয়েছে। সাধারণত সব বড় আয়োজন ঢাকাকেন্দ্রিক হলেও এবার সিলেটকে বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলও সমান গুরুত্ব পায়।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিচ্ছে। মোট আটটি ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে জেলা, বিভাগ এবং শেষে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আঞ্চলিক পর্ব শেষ হবে ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে।

দেশকে ১০টি ক্রীড়া অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে— ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলে নির্ধারিত কমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যাতে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যথাযথ মূল্যায়ন পায়।

বিজ্ঞাপন

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতিতে খেলা হবে। দাবা প্রতিযোগিতা সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন ছেলে এবং ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন মেয়ে। অঞ্চলভিত্তিক রেজিস্ট্রেশনে ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ হয়েছে, আর সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ অঞ্চলে।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে সিলেটজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। আয়োজকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া প্রতিভা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD