Logo

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন আজ, ভবিষ্যৎ তারকা খুঁজবে সরকার

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২ মে, ২০২৬, ১৩:৪৮
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন আজ, ভবিষ্যৎ তারকা খুঁজবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এই আইকনিক আয়োজনটি দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সম্প্রচার শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’—যার লক্ষ্য তৃণমূল থেকে ভবিষ্যৎ ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা।

বিজ্ঞাপন

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আজ শনিবার বিকেল ৪টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের সব জেলা স্টেডিয়াম থেকে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীরা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অনুপ্রাণিত করতে জাতীয় পর্যায়ের ৩২ জন ক্রীড়াবিদ উপস্থিত থাকবেন, যারা অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা দেবেন। স্থানীয় কোচ, ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও থাকবে।

বিজ্ঞাপন

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কীভাবে হবে প্রতিভা নির্বাচন :

এই প্রতিযোগিতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারবে। মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপে প্রতিযোগিতা হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। আঞ্চলিক পর্ব ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত সময়সূচি পরে জানাবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, প্রতি বছর নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই আয়োজন চলবে। চলতি আসর জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা চালু রাখার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়ার প্রসার ঘটানো হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দলমত নির্বিশেষে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

অঞ্চলভিত্তিক কাঠামো ও প্রতিযোগিতা পদ্ধতি :

পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলে জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রতিটি ধাপে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে।

বিজ্ঞাপন

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতিতে খেলা হবে। দাবায় থাকবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতি। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাই ও ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশন ও অংশগ্রহণ :

১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধনে সারা দেশ থেকে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন।

বিজ্ঞাপন

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ঢাকায়—২৫ হাজার ৩৮৭ জন। সবচেয়ে কম নিবন্ধন ময়মনসিংহে, ৭ হাজার ৯৬৬ জন।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা :

বিজ্ঞাপন

প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি ও বিভিন্ন ধাপে সনদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত হারে ভাতাও প্রদান করা হবে।

জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ এবং সরকারি ক্রীড়া বৃত্তি। উন্নত প্রশিক্ষণ, পড়াশোনা ও সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ। আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোর মানোন্নয়নেও কাজ চলছে, যাতে স্থানীয় প্রতিভারা নিজ অঞ্চলেই উন্নত সুযোগ-সুবিধা পায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, প্রতিভা বাছাইয়ে স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া কঠোর নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হবে। চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিক্যাল টিমও থাকবে।

সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্রীড়া উন্নয়ন কার্যক্রমকে সমন্বিত করে কার্যকর কাঠামোতে আনা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন

ক্রীড়া খাতকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD