Logo

বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিলে ট্রফির রেপ্লিকা তৈরির জোয়ার

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১২ মে, ২০২৬, ১৩:১৩
বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রাজিলে ট্রফির রেপ্লিকা তৈরির জোয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলে আবারও বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা তৈরির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে রিও ডি জেনেইরোর কারিগর জারবাস মেনেঘিনির কারখানায় এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। বহু বছর ধরে হাতে তৈরি বিশ্বকাপ ট্রফির নকল সংস্করণ বানিয়ে আসছেন তিনি। তার আশা, এবার শুধু রেপ্লিকাই নয়, আসল ট্রফিটাও ব্রাজিলে ফিরবে।

বিজ্ঞাপন

৫৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান কারিগরের দাবি, এখন পর্যন্ত তিনি প্লাস্টার দিয়ে প্রায় তিন হাজার বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা তৈরি করেছেন। এসব ট্রফি আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হওয়ায় তার ব্যবসাতেও এসেছে বাড়তি গতি।

সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর থেকে দলটি বারবার হতাশ করেছে সমর্থকদের। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জাজনক হারে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের। এছাড়া পরবর্তী আসরগুলোতে ব্রাজিলের যাত্রা থেমেছে কোয়ার্টার ফাইনালেই। তবে এবার নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস করছেন দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেনেঘিনি জানান, ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিল অধিনায়ক ডুঙ্গার হাতে ট্রফি দেখেই তার মাথায় এই ব্যবসার চিন্তা আসে। তিনি বলেন, “ডুঙ্গাকে ট্রফি হাতে দেখে আমারও একটি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল। কিন্তু কোথাও বিশ্বকাপ ট্রফির ভালো কোনো রেপ্লিকা পাইনি। তখনই সিদ্ধান্ত নিই নিজেই এটি তৈরি করব।”

ধাতব কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তিনি ট্রফি তৈরির কৌশল আয়ত্ত করেন। বর্তমানে তার তৈরি রেপ্লিকা বিশ্বের ১৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব ট্রফি ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। কিছুতে সোনালি রং ব্যবহার করা হয়, আবার কিছুতে চকচকে ক্রোম ফিনিশ দেওয়া হয়, যা দেখতে আরও আকর্ষণীয় লাগে।

রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়াম–এর কাছেই নিজের কারখানায় কাজ করেন মেনেঘিনি। পর্যটক ও স্থানীয় ফুটবল সমর্থকদের কাছেও তার তৈরি ট্রফির বেশ চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, “একই ছাঁচ ব্যবহার করে হাজার হাজার ট্রফি বানাই। কিছু সাধারণভাবে রং করা হয়, আবার কিছুতে বিশেষ ক্রোম ফিনিশ দেওয়া হয়। এগুলো এতটাই চকচকে হয় যে, কেউ চুমু খেলে নিজের প্রতিবিম্বও দেখতে পাবে।”

বিজ্ঞাপন

প্রতি বিশ্বকাপ এলেই ব্রাজিলের মানুষের মধ্যে নতুন করে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন জেগে ওঠে। সেই আবেগের প্রভাব পড়ে রেপ্লিকা ট্রফির বাজারেও। মেনেঘিনির ভাষায়, “অনেক বছর ধরে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কিন্তু এবার আবারও মানুষের মনে আশা তৈরি হয়েছে।”

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সাধারণত ১০০ থেকে ২০০টি ট্রফি তৈরি করলেও এবার প্রায় ৬০০টি রেপ্লিকা তৈরির প্রস্তুতি নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান কারিগর।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD