কালো মাস্ক পরে কেন খেলেছেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক জিদানপুত্র?

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে আলজেরিয়ার গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে ছিলেন লুকা জিদান। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তার মুখে থাকা কালো রঙের বিশেষ মাস্ক। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে আলজেরিয়া পরাজিত হলেও লুকা জিদানের কালো ফেস মাস্ক ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৩-০ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে দর্শকদের অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কেন এমন মুখোশ পরে খেলছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের ছেলে। আর সেই কৌতূহলের পেছনে লুকিয়ে ছিল চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার এক সংগ্রামী গল্প।
প্রথম দেখায় এটি অনেকের কাছে ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত স্টাইলের অংশ মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। লুকার মুখে থাকা এই সুরক্ষামূলক মাস্কের পেছনে রয়েছে গুরুতর চোটের ইতিহাস।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাডার হয়ে খেলা ২৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক গত বছর আলজেরিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও কয়েক মাস আগেও তার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে ক্লাব ফুটবলে একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে মুখে আঘাত পান লুকা। পরে পরীক্ষায় তার চোয়াল ও থুতনির অংশে জটিল আঘাত এবং মুখের হাড়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে।
এ ধরনের চোট সাধারণত একজন ফুটবলারের জন্য দীর্ঘ পুনর্বাসনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার এবং কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকার প্রয়োজন হয়। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলার স্বপ্নও ঝুঁকির মুখে পড়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তবে বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি লুকা। চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি এমন একটি পদ্ধতি বেছে নেন, যাতে দ্রুত মাঠে ফেরা সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে মুখের ক্ষতিগ্রস্ত অংশও সুরক্ষিত থাকে।
এ কারণে তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় কার্বন ফাইবারের সুরক্ষামূলক ফেস মাস্ক। এই মাস্ক মুখে লাগা অতিরিক্ত চাপ ও ধাক্কা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়, ফলে আঘাতপ্রাপ্ত অংশে সরাসরি চাপ পড়ে না। একই সঙ্গে খেলোয়াড়কে স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ দেয়।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লুকা জানান, অস্ত্রোপচারের পর তার পুনর্বাসন ভালোভাবেই এগিয়েছে। তিনি জানান, ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে এবং কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আবার অনুশীলনে ফিরতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট।
তার মতে, চিকিৎসা সফল হওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পেরেছেন। মাঠে ফিরে দেশের জার্সিতে খেলতে পারা তার জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়।
লুকা জিদানের পরিচয় শুধু একজন গোলরক্ষক হিসেবেই নয়; তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় জিনেদিন জিদানের সন্তান। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া লুকা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফরাসি ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পারিবারিক শিকড়ের কারণে পরবর্তীতে তিনি আলজেরিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
আলজেরিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করার পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক ইনজুরির পরও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দায়িত্ব পালন করে তার মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।








