Logo

বাবার অসুস্থতার কষ্টেই মাঠে কেঁদেছিলেন মেসি

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৮ জুন, ২০২৬, ১২:২৩
বাবার অসুস্থতার কষ্টেই মাঠে কেঁদেছিলেন মেসি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে তিনি শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও নিজের নাম তুলে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে গোলের উল্লাসের মাঝেই হঠাৎ জার্সি দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায় মেসিকে। তার কোটি কোটি ভক্ত ভেবেছিলেন, হয়তো আবেগে ভেঙে পড়েছেন ইতিহাস গড়ার আনন্দে। পরে জানা গেল, সেই অশ্রুর পেছনে ছিল অনেক বেশি ব্যক্তিগত এবং বেদনাদায়ক এক কারণ। ম্যাচ শেষে মেসি স্পষ্ট করে জানান, তার কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। দলের সবাই আমাকে শক্তি দিয়েছে, পাশে ছিল।’

পরে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে, মেসির বাবা জর্জ মেসি দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলেও জানা যায়। পরিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে না চাইলেও বাবার অসুস্থতা মেসির মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেসিকে ভালোবাসার বার্তা দিতেও দেখা যায়। অনেকের বিশ্বাস, সেটি ছিল অসুস্থ বাবার উদ্দেশে পাঠানো আবেগঘন এক বার্তা। জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অর্জনের মুহূর্তে বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্টই হয়তো তার মধ্যে কাজ করছিল।

বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এটাই হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফলে একদিকে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ার আনন্দ, অন্যদিকে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা—দুই অনুভূতির মিশ্রণেই তৈরি হয়েছিল সেই আবেগঘন মুহূর্ত।

বিজ্ঞাপন

ফুটবলের পরিসংখ্যান সময়ের সঙ্গে বদলে যায়, নতুন রেকর্ডও তৈরি হয়। কিন্তু কানসাস সিটির সেই রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য এক কারণে। কারণ সেদিন হ্যাটট্রিক করা কিংবদন্তি মেসির চোখে যে জল দেখা গিয়েছিল, তা ছিল একজন বিশ্বসেরা ফুটবলারের নয়, বরং অসুস্থ বাবার জন্য উদ্বিগ্ন এক সন্তানের অনুভূতির।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD