মেসি’র ম্যাজিকে কুপোকাত ছেলে, ভাইরাল জিদানের প্রতিক্রিয়া

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের এই ম্যাচে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের তিনটি গোলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তিনি ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে উপস্থিত জিদানের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। আক্রমণভাগে মেসির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে দলটি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের তিনটি গোলই আসে মেসির পা থেকে, যা আর্জেন্টিনাকে স্বস্তিদায়ক জয় এনে দেয়।
অন্যদিকে আলজেরিয়ার গোলবার সামলানোর দায়িত্বে থাকা লুকা জিদানের জন্য ম্যাচটি খুব একটা সুখকর ছিল না। হজম করা তিন গোলের মধ্যে অন্তত দুটি গোল নিয়ে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। প্রথমার্ধে দূর থেকে নেওয়া মেসির একটি শট সামলাতে ব্যর্থ হন লুকা। পরে দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি আক্রমণে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় ফিরতি সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই জালে বল পাঠান মেসি।
বিজ্ঞাপন
এই পুরো দৃশ্য গ্যালারিতে বসেই প্রত্যক্ষ করেন জিনেদিন জিদান। ছেলের পারফরম্যান্স এবং আলজেরিয়ার বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে তার মুখের অভিব্যক্তি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ফুটবলভক্তদের নানা মন্তব্য ও রসিকতা।
অনেকেই মজার ছলে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। কেউ বলেছেন, ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে জিদানের প্রতিক্রিয়াই বেশি আলোচনায় এসেছে। আবার কেউ কেউ ছেলের কঠিন সময় নিয়ে হাস্যরসাত্মক মন্তব্যও করেছেন। ফলে ম্যাচ শেষে মেসির হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি জিদানের অভিব্যক্তিও হয়ে ওঠে আলোচনার অন্যতম বিষয়।
লুকা জিদানের আলজেরিয়ার হয়ে খেলার পেছনেও রয়েছে পারিবারিক ইতিহাস। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই গোলরক্ষক চাইলে ফরাসি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। তবে তার পিতৃসূত্রে আলজেরিয়ার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকায় তিনি উত্তর আফ্রিকার দেশটির জার্সি বেছে নিয়েছেন। জিনেদিন জিদানের পরিবারের শিকড়ও আলজেরিয়ায় হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিজ্ঞাপন
তবে আলজেরিয়ার পরাজয়ের দায় কেবল গোলরক্ষকের ওপর চাপানো যাচ্ছে না। পুরো ম্যাচজুড়েই দলটি ছিল ছন্দহীন। আক্রমণভাগে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি, এমনকি প্রতিপক্ষের গোলবার লক্ষ্য করে উল্লেখযোগ্য শটও নিতে পারেনি তারা। অন্যদিকে মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রক্ষণভাগের কৌশলও কার্যকর হয়নি।
ফলে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ছিল স্পষ্টতই এগিয়ে। মেসির নেতৃত্বে দলটি নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করেছে, আর আলজেরিয়াকে ফিরতে হয়েছে হতাশাজনক এক পরাজয় নিয়ে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে মেসি আবারও প্রমাণ করেছেন, বয়স তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে লুকা জিদান ও আলজেরিয়ার জন্য এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।








