আমাকে উপদেশ দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি একজনই আছেন

ফুটবল কোচদের মধ্যে শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত কার্লো আনচেলত্তি। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কোচিং ক্যারিয়ারে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোকে অসংখ্য শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। চাপ, সমালোচনা কিংবা বিতর্ক—কোনোটিই সাধারণত তাকে বিচলিত করতে পারে না। এ কারণেই স্পেনে তার ডাকনাম হয়েছিল ‘দ্য ডন’। তবে এবার সমালোচনার মুখে কিছুটা ভিন্ন রূপে দেখা গেল ব্রাজিলের এই কোচকে।
বিজ্ঞাপন
জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েও সমালোচনা থেকে রেহাই পায়নি ব্রাজিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আনচেলত্তির কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, সেলেসাওদের খেলায় আগের মতো ধার নেই। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এমন পারফরম্যান্স নিয়ে নকআউট পর্বে এগোনো কঠিন হবে।
তবে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্যাসেমিরো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি। এই জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু তাতেও সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়নি।
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্কে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই সমালোচনার জবাবই দিলেন আনচেলত্তি, ‘ইতালিতে একটা কথা প্রচলিত আছে—সব পুরুষই হতে চায় ফুটবল কোচ, আর সব নারী হতে চায় আর্কিটেক্ট (স্থপতি)।’
আরও পড়ুন: মুশফিকুর রহিমকেও কোচিংয়ে আনতে চায় বিসিবি
এরপর নিজের দীর্ঘ কোচিং অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ফুটবল বুঝি কি বুঝি না, তা আমার জানা নেই। তবে এই বিষয়ে আমাকে বিচার করার যোগ্যতা কারও নেই। শুধু একটা জিনিস নিশ্চিত, আমি ১ হাজার ৪০০–এর বেশি ম্যাচে কোচিং করিয়েছি। ফুটবল বোঝার জন্য হয়তো এটিই শেষ কথা নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতা হিসেবে এটি মোটেও কম কিছু নয়।’
বিজ্ঞাপন
সবশেষে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ব্রাজিলের এই কোচ। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার চেয়ে বেশি ম্যাচে ডাগআউটে ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তিনি দুই হাজারেরও বেশি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি সবার পরামর্শ শুনি। তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি একজন থাকেন, তিনি শুধু স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।’








