Logo

বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৮
বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ লড়াইয়ের পর নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েনি ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে সমতায় ফেরার পর অতিরিক্ত সময়ে জুড বেলিংহামের দ্বিতীয় গোলেই জয় নিশ্চিত হয় ইংলিশদের। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে নতুন ইতিহাসও গড়েছেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংল্যান্ডের পায়ে। টমাস টুখেলের শিষ্যরা আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। বরং প্রথমার্ধের শেষভাগে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন মার্টিন ওডেগার্ড। দ্রুতগতির আক্রমণে তিনি বল বাড়িয়ে দেন আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দিকে। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গোলের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৪০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছিল দলটি। তবে ফাঁকায় থাকা আর্লিং হলান্ডকে পাস না দিয়ে একাই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আলেক্সান্দার সরলথ। শেষ পর্যন্ত সেই আক্রমণ ব্যর্থ হলে বড় সুযোগ হাতছাড়া করে নরওয়ে।

সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে বেশি সময় লাগেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। সেই গোলেই ম্যাচে সমতা ফেরায় ইংল্যান্ড।

সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ পর হ্যারি কেইন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল করে দেন ম্যাচ কর্মকর্তা। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা বদলে যায়। ইংল্যান্ড আক্রমণে আগের মতো ধার দেখাতে না পারলেও নরওয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ৫৫তম মিনিটে কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগেম গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় সেটি বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নার নেওয়ার আগে হলান্ড ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন।

এরপর ৭৬তম মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে হলান্ডও গোল করতে ব্যর্থ হন। ৮৫তম মিনিটে আন্তোনিও নুসার নেওয়া নিচু শটও দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড একটি অন-টার্গেট শটও নিতে পারেনি। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বুকায়ো সাকার দারুণ ক্রস থেকে হ্যারি কেইন ও এবেরেচি এজে গোল করার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই আর গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত সময়েই নায়ক হয়ে ওঠেন জুড বেলিংহাম। ৯২তম মিনিটে হ্যারি কেইনের হেড নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ড অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। তবে পরের মিনিটেই মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি। ফিরতি বলের সামনে থাকা বেলিংহাম দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সহজ টোকায় জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

এরপরও ম্যাচে নাটকীয়তার শেষ হয়নি। ৯৯তম মিনিটে ডি'জেড স্পেন্সকে বক্সের ভেতরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রথমে ইংল্যান্ডের পক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্পেন্সই আগে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে স্পর্শ করেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পেনাল্টি বাতিল করেন রেফারি।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার অ্যালান শিয়ারার ও পল রবিনসন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, পেনাল্টি বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শেষদিকে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে নরওয়ে। ১০৯তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরও একাধিক আক্রমণ চালালেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি নরওয়ের ফুটবলাররা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে শেষদিকে ইংল্যান্ডও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছিল। স্পেন্স ও বুকায়ো সাকার পরপর দুটি শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন নিলান্ড, ফলে ম্যাচে নরওয়ের আশা কিছুটা টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।

ম্যাচের ১০৫তম মিনিটে গোলহীন থাকা আর্লিং হলান্ডকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ের কোচ। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৬৩৬ দিন পর প্রথমবার কোনো গোল না করেই মাঠ ছাড়েন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বেলিংহাম নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখে আবারও ম্যাচের নায়ক হন। এর আগের নকআউট ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল করেছিলেন। ফলে টানা দুটি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচে দুটি করে গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই রেকর্ড স্পর্শ করলেন ইংল্যান্ডের এই তরুণ তারকা।

দুর্দান্ত এই প্রত্যাবর্তনের জয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে চতুর্থবারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল। শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা টমাস টুখেলের দল এখন শেষ চারের লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করবে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD