Logo

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেইডেন অ্যাডামস

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১২ জুলাই, ২০২৬, ১৩:০৪
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেইডেন অ্যাডামস
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলার জেইডেন অ্যাডামস। মাত্র ২৫ বছর বয়সে জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনে।

বিজ্ঞাপন

দেশটির ফুটবলারদের সংগঠন দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল খেলোয়াড় ইউনিয়ন শনিবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জেইডেন অ্যাডামস সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন। টুর্নামেন্টে ‘বাফানা বাফানা’ নামে পরিচিত দলটির হয়ে গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক উত্তরণেও ছিল তার অবদান।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন অ্যাডামস। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারের ম্যাচ এবং চেকিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই খেলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন অ্যাডামস। সেই জয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে কানাডার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে তিনি বদলি বেঞ্চে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। সেটিই হয়ে থাকে তার জাতীয় দলের হয়ে শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার মিলিটারি রোডের স্কটসচেকলুফ এলাকার একটি ভবনে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারদের সংগঠন এক বিবৃতিতে জানায়, বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে অ্যাডামস সাহস, নিষ্ঠা ও গর্বের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার অকাল মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, সতীর্থ, ক্লাব, দেশের ফুটবল অঙ্গন এবং পুরো জাতির জন্যই অপূরণীয় ক্ষতি।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনটি আরও জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল একটি প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে হারিয়েছে। সামনে তার আরও অনেক কিছু অর্জনের সুযোগ ছিল, কিন্তু অকালেই থেমে গেল সেই সম্ভাবনাময় পথচলা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জিও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন অ্যাডামসের দাদী মারিয়ানা অ্যাডামস মারা যাওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে জেইডেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠে নেমে সর্বোচ্চটা দেওয়ার যে মানসিকতা অ্যাডামস দেখিয়েছিলেন, তা তার অসাধারণ চরিত্র, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। এত অল্প বয়সে এমন একজন নিবেদিতপ্রাণ ফুটবলারের মৃত্যু দেশের জন্য বড় ক্ষতি।

বিজ্ঞাপন

জেইডেন অ্যাডামসের স্মরণে বিশ্বকাপের নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিশ্ব ফুটবল পরিবারও তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানায়।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্বকাপে দেশের ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুর সংবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি অ্যাডামসের পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ক্লাব ফুটবলেও জেইডেন অ্যাডামস ছিলেন অন্যতম সম্ভাবনাময় মিডফিল্ডার। দীর্ঘ সময় স্টেলেনবস এফসির হয়ে খেলার পর গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল ক্লাব মামেলোদি সানডাউনসে যোগ দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের মে মাসে মামেলোদি সানডাউন্সের হয়ে আফ্রিকান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা ক্যাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পান অ্যাডামস। সেই শিরোপা জয়ের পদক তিনি উৎসর্গ করেছিলেন তার সাবেক সতীর্থ ও বন্ধু ওশউইন অ্যান্ড্রিসকে, যিনি ২০২৩ সালে ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

জেইডেন অ্যাডামসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মামেলোদি সানডাউন্সও। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের এই তরুণ ফুটবলারের অকাল প্রয়াণে সবাই মর্মাহত। একই সঙ্গে অ্যাডামসের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোকের এই সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

স্টেলেনবস এফসির জন্যও এটি আরেকটি বড় ধাক্কা। অ্যাডামস ও ওশউইন অ্যান্ড্রিস একসঙ্গে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে উঠে এসেছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ক্লাবটি আরেক তরুণ ফুটবলার জিয়ান্দ্রে গাফুরের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যেই অ্যাডামসের মৃত্যু দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলকে আরও একবার গভীর শোকের মধ্যে ফেলে দিল।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখানো এই তরুণ মিডফিল্ডারের অকাল বিদায়ে শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনও হারাল এক সম্ভাবনাময় প্রতিভাকে। তার অসমাপ্ত ক্যারিয়ার এবং মাঠের লড়াকু মানসিকতা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবেন ফুটবলপ্রেমীরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD