ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মুখোমুখি লড়াইয়ে কার পক্ষে ইতিহাস?

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি আবারও ফিরছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দলের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য—ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করা। তবে ম্যাচটি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে এবার নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো একে অপরের মুখোমুখি হবে দুই দল। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জয় বেশি হলেও নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
সিনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত দুই দল মোট ১৩ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছে ছয়টি ম্যাচে, আর্জেন্টিনার জয় তিনটিতে। বাকি চারটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামান্য এগিয়ে থাকা স্পষ্ট।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৬২ সালের আসরে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর চার বছর পর ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই ম্যাচেও ১-০ গোলের জয় পায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। পরে সেই আসরেই প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ইংলিশরা।
তবে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপেই বদলে যায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই জন্ম নেয় বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত দুটি মুহূর্ত—ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা অসাধারণ একক প্রচেষ্টার গোল, যা এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজ্ঞাপন
এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও নাটকীয় লড়াই হয় দুই দলের মধ্যে। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখান থেকে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনটি ম্যাচে, আর্জেন্টিনা দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তবে এর মধ্যে নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচের দুটিতেই জয় আর্জেন্টিনার। ফলে বড় ম্যাচে আর্জেন্টিনার সাফল্যের হার কিছুটা বেশি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের বাইরে দুই দেশের আরও কয়েকটি স্মরণীয় ম্যাচ রয়েছে। ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে প্রতিটি ম্যাচই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবেগ এবং নাটকীয়তায় ভরপুর।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং ইতিহাস, আবেগ, বিতর্ক এবং অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের ম্যাচের পর থেকে এই দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পায়।
বিজ্ঞাপন
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সেই ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেরার স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড।
পরিসংখ্যান সামগ্রিকভাবে ইংল্যান্ডকে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার সফলতার ইতিহাস ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে অতীতের রেকর্ড নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে কোন দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং ফুটবল বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন গৌরবের গল্প লিখবে।








