আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ছিল আগে থেকে সাজানো!

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি জয়কে ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এবার সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে লিওনেল মেসিদের সেমিফাইনালে ওঠার পর রেফারিং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কিছু গণমাধ্যম ও সমর্থকদের একাংশ দাবি করছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সুবিধা দিতেই ম্যাচ পরিচালনায় পক্ষপাত দেখানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ‘রিগড সেমিফাইনাল’ বা ‘আগে থেকেই সাজানো’ ম্যাচের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের দাবি, আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতেই সেমিফাইনালের পথ সহজ করে দেওয়া হচ্ছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের একটি ঘটনা। ম্যাচ চলাকালে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। প্রথমে পর্তুগিজ রেফারি হোয়াও পিনহেইরো আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআরের সহায়তায় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার নিয়ম প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ভিডিও রিভিউয়ের পর পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়। পরিবর্তে ডাইভিং বা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাউল আদায়ের চেষ্টা করার অভিযোগে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এটি ছিল তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস এই ফরোয়ার্ডকে।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে সুইজারল্যান্ড শিবিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মাঠেই রেফারির সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম্যাচ শেষে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিনও প্রকাশ্যে রেফারিংয়ের সমালোচনা করেন।
এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সুবিধা পাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফাইনালে তুলতেই সেমিফাইনালের পথ আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইংলিশ গণমাধ্যমও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আর্জেন্টিনার পক্ষে মিসরের বিপক্ষে পাওয়া একটি পেনাল্টি এবং ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচে ডেজেড স্পেন্সকে ঘিরে অনুরূপ ঘটনার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিএআরের ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আগামী বুধবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রেফারিং বিতর্ক, সমর্থকদের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ম্যাচটিকে বাড়তি উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের পারফরম্যান্সে কে নিশ্চিত করতে পারে ফাইনালের টিকিট।








