বিকেএসপি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ক্যাম্পাসে কারাতে বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসীন আরাফাত জীমের (ইয়াসার আহমেদ জীম) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২ আগস্ট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।
গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-২ অনুবিভাগ) মো. মাহফুজুল আলম খানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান (পিএসসি), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ. বি. এম. এহছানুল মামুন এবং সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মমিনুল হাসান।
কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া-১ অধিশাখার উপসচিব মো. মিজানুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত কমিটিকে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে রাত দেড়টার মধ্যে কোনো এক সময় অনুশীলন শেষে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল টপকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ইয়াসীন আরাফাত জীম। পরে তার মৃত্যু হয়।
তবে একটি রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পাসে কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর ইয়াসীনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত ইয়াসীন আরাফাত জীম কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মেহেরিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোখতার আহমেদের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই কারাতে খেলায় আগ্রহী ইয়াসীন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, প্রশিক্ষক এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্তের স্বার্থে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য বা বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয় বলেছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








