হাসান-এবাদতের তোপে ২৪০ রানেই অলআউট আফগানিস্তান

আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনে মাত্র ২৩ রান যোগ করতেই বাকি ছয় উইকেট হারিয়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। হাসানের ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট এবং এবাদতের চার উইকেটে ২৪০ রানেই গুটিয়ে গেছে আফগানদের প্রথম ইনিংস।
বিজ্ঞাপন
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল পেয়েছে ১০৬ রানের লিড। আফগান অধিনায়ক রহমত শাহর সেঞ্চুরিতে দলটি এই রান পর্যন্ত পৌঁছালেও বাংলাদেশের পেসারদের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১৭ রান করেছিল আফগানিস্তান। রোববার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হতেই তাদের ব্যাটিংয়ে ধস নামান বাংলাদেশের বোলাররা। দিনের তৃতীয় ওভারেই এবাদত হোসেনের ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হন আগের দিন অপরাজিত থাকা ইকরাম আলিখিল। ৩২ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর একের পর এক উইকেট তুলে নিতে থাকেন হাসান মাহমুদ। এক প্রান্তে সতীর্থদের সাজঘরে ফেরা দেখেছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। অন্য প্রান্তে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে দ্রুত গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস।
বিজ্ঞাপন
টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হাসানের হ্যাটট্রিক
তৃতীয় দিনের চতুর্থ ওভারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ। প্রথমে ইসমত আলমকে এক রানে বোল্ড করেন তিনি। নিচু হয়ে আসা বলের লাইন বুঝতে পারেননি আফগান এই ব্যাটার। পরের দুই বলে কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রেহমানকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। দুজনই কোনো রান করতে পারেননি।
কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। হ্যাটট্রিক পূর্ণ করা তৃতীয় উইকেটটি প্রথমে দেননি আম্পায়ার। পরে বাংলাদেশের রিভিউতে দেখা যায়, বলটি জিয়া-উর-রেহমানের পায়ে লেগে অফ-মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে যাওয়ায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় হাসানের।
বিজ্ঞাপন
এর মধ্য দিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার এবং প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন তিনি। এর আগে দুই স্পিনার অলক কাপালি ২০০৩ সালে এবং সোহাগ গাজী ২০১৩ সালে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
চলতি বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এটি প্রথম হ্যাটট্রিক। ফরম্যাটটির ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিকের ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতেও প্রথমবারের মতো টেস্ট হ্যাটট্রিক দেখল ক্রিকেটবিশ্ব।
রহমতের সেঞ্চুরি, হাসানের ফাইফার
বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তান যখন বিপর্যয়ে, তখনও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন রহমত শাহ। আগের দিন ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা আফগান অধিনায়ক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন। চার ও ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তিনি দলের রান এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এর মধ্যেই ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ করেন হাসান। পরে হাসানের এক ওভারে রহমত ১৪ রান নেন। এরপর স্ট্রাইক প্রান্তে ব্যাটার বদল হলে আক্রমণে আসেন এবাদত হোসেন। তার প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সেলিম শফি। তাতেই শেষ হয় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
অধিনায়ক রহমত শাহ ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ পাঁচটি, এবাদত হোসেন চারটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে এখন ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ।








