সোমবার থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রা শুরু, মিলছে রাতে থাকার সুযোগ

আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হচ্ছে। সরকারি অনুমোদিত ১২টি নির্দেশনা অনুসরণ করে পর্যটকরা এখন দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞাপন
চলতি মৌসুমের এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় জাহাজগুলো কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে যাত্রা করবে।
সেন্টমার্টিনে পর্যটক আগমনের খবর দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষিত ছিল। যদিও গত ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল, রাত্রিযাপনের বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ চলাচল করা হয়নি। তবে সোমবার থেকে জেলা প্রশাসনের অনুমোদিত চারটি জাহাজ নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করবে। প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার পর্যটক বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে দ্বীপে পৌঁছাবেন।
পর্যটকরা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করবেন। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে, যা ছাড়া টিকিট বৈধ হবে না। প্রথম দিনে তিনটি জাহাজের অগ্রিম প্রায় ১২শ টিকেট বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পানাম সিটি
জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রথম যাত্রার সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ও সুন্দর ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী মৌসুমে অন্তত চার মাস পর্যন্ত রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিজ্ঞাপন
দ্বীপবাসীরাও পর্যটক আগমনের জন্য উচ্ছ্বসিত। সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পর্যটনই আমাদের জীবিকা ও বেঁচে থাকার অন্যতম উপায়। সংকট থাকা সত্ত্বেও দ্বীপবাসী আতিথেয়তায় কোনো কমতি রাখবে না।
সরকারিভাবে আরোপিত ১২টি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার দ্বীপে ভ্রমণকালে নির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে হবে। সেগুলো হলো- রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রি এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্যান্য মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার এড়াতে হবে, এবং প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহার করা উচিৎ।
আরও পড়ুন: পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সোনারগাঁও জাদুঘর
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের মূল্যবান সম্পদ। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকসহ সকলেরই নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। আশা করি সবাই প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
পর্যটকরা এই ব্যবস্থা মেনে চললে সেন্টমার্টিনে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ভ্রমণ নিশ্চিত হবে এবং দ্বীপের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








