ব্রিটিশদের ঐতিহাসিক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ আবারও দেউলিয়া

বাংলার এবং বিশ্বের—ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর শোষণ ও বিদ্রোহের অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবার দ্বিতীয়বার দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের পরে লন্ডনের বিলাসবহুল খুচরা উদ্যোগও আর টিকতে পারল না।
বিজ্ঞাপন
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে রানি এলিজাবেথ-১-এর রাজকীয় সনদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত বিদেশে বাণিজ্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে কোম্পানি রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা অর্জন করে।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শাসনভার নেওয়ার মাধ্যমে তারা স্থানীয় রাজা-নেতাদের শোষণ করে শক্তি বৃদ্ধি করে। কোম্পানির শাসনে ১৭৬৯ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে প্রায় ৩ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
বাণিজ্যিক নীতি, কর ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম চাপ তৈরি হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এই শোষণের বিরুদ্ধে বড় প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইতিহাসে প্রবেশ করে। মূল কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা ১৮৫৮ সালে বিলুপ্ত হয় এবং ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে।
২০০০-এর দশকে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা কোম্পানির নামের মালিকানা কিনে ২০১০ সালে লন্ডনের মেফেয়ার এলাকায় বিলাসবহুল খুচরা দোকান চালু করেন। এখানে প্রিমিয়াম চা, চকলেট, মিষ্টি, মসলা ও অন্যান্য উচ্চমানের পণ্য বিক্রি হতো। এই উদ্যোগকে অনেকেই প্রতীকী অর্থে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আর্থিক দুর্দশার কারণে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কোম্পানির মূল গ্রুপের কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি দেনা, কর বাবদ ১ লাখ ৯৩ হাজার পাউন্ড এবং কর্মীদের বেতন বাবদ ১ লাখ ৬৩ হাজার পাউন্ড বকেয়া রয়েছে। লন্ডনের দোকানও খালি, ওয়েবসাইট বন্ধ।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি ব্রিটিশ শাসন, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরাট অধ্যায়। আজকের দেউলিয়ায় তা আবারও স্মরণ করায়—সময়ের সঙ্গে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানও মানুষের ইতিহাসের অংশ হয়ে থেকে যায়, আর তাদের নাম ও কর্মপ্রচেষ্টা ইতিহাসে অম্লান থাকে।







