Logo

পিরোজপুরে পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় দিন কাটছে বেল্লালের

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
১০ জুলাই, ২০২৫, ২৩:২০
পিরোজপুরে পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় দিন কাটছে  বেল্লালের
ছবি: সংগৃহীত

লিশের গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় দিন কাটছে ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বেল্লাল হোসেনের।

বিজ্ঞাপন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে পঙ্গুত্বের আশঙ্কায় দিন কাটছে  ইন্দুরকানী উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বেল্লাল হোসেনের।

একই উপজেলার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের আ. সালাম হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহ (১৭) ৫ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশের গুলি তার হাতের দুটি শিরা ছিড়ে যায়। পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে তার হাতের অপারেশন করা হয়। 

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আহত বেল্লাল হোসেন জানান, জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে দুই লক্ষ টাকা চিকিৎসার জন্য দিয়ে ছিল। এখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন হসপিটালের চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসা না করলে হাত কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসার জন্য যেতে পারছি না। 

বেল্লালের বাবা আব্দুল বারেক হাওলাদার এলাকায় ছোট দোকান নিয়ে চা বিক্রি করেন। দুই ছেলের মধ্যে বেল্লাল ছোট। সংসারের অভাব ঘোচাতে ১২ বছর আগে ঢাকায় যায় বেল্লাল। তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন। যা আয় করতেন তা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণের পাশাপাশি বাবা-মার জন্যও কিছু টাকা পাঠাতেন। এখন কি করে তার চিকিৎসা করবেন আর কি করে সংসার চালাবেন এমন আহাজারি করছিলেন বেল্লাল।

বিজ্ঞাপন

বারেক হাওলাদার বলেন, ‘মোর পোলার কী দোষ ছিল? গুলি কইরা ডান হাতটা শেষ কইরা দিছে। চিকিৎসা করাইতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হইছে। ডাক্তার কইছে আরেকটা অপারেশন লাগব। কিন্তু টাকা নাই। কেমনে চিকিৎসা করামু।’

বিজ্ঞাপন

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বেল্লালের মা বলেন, ‘শুনছি যারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হইছে, তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করছে ছাত্ররা। কিন্তু আমার পোলার খোঁজ তো কেউ নিল না।’

বিজ্ঞাপন

গত ১৯ জুলাই শুক্রবার সকালে বাজার করে ফেরার পথে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ ছাত্র-জনতার মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে একটা গুলি এসে বেল্লালের ডান হাতে লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীর চাপ থাকায় ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বেল্লালকে চিকিৎসার জন্য তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে আহত সানাউল্লাহকে দোকান ঘর সহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসডি/

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD