পাম্পের অনিয়মের ভিডিও করতেই সাংবাদিকের ওপর হামলা, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশনে অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাজেদা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার বরিশাট গ্রামের মাজেদা ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং খোলামেলাভাবে বোতল ও ড্রামে তেল সরবরাহের অভিযোগ ছিল। এসব অনিয়মের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছিল।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক এক পত্রিকার শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শ্রীপুর থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য নাজমুল হঠাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই পুলিশ সদস্য শুধু ধাক্কা দিয়েই থেমে থাকেননি, তিনি সাংবাদিককে মারধর করেন এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে আবারও তাকে মারধর করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুর রশিদ বলেন, ফিলিং স্টেশনের অনিয়মের খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং ড্রামে পেট্রোল ভরার দৃশ্য ধারণ করছিলেন। ঠিক সেই সময় নাজমুল নামের ওই পুলিশ সদস্য অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালান, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ ওঠার পরপরই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম) জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাজমুলকে ইতোমধ্যে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।








