বৃষ্টির ছোঁয়ায় চাঙা মৌলভীবাজারের চা বাগান, মৌসুমের শুরুতেই ব্যস্ত শ্রমিকরা

টানা কয়েক মাসের খরার পর স্বস্তির বৃষ্টি পেয়ে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলো। মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছে গাছে দেখা দিয়েছে কচি পাতা ও কুঁড়ির সমারোহ, ফলে ধীরে ধীরে সবুজে ভরে উঠছে বিস্তীর্ণ চা বাগান।
বিজ্ঞাপন
জেলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও সদর উপজেলাজুড়ে প্রায় ৯২টি চা বাগান রয়েছে। এসব বাগানে চা উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক লোডশেডিং উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সাধারণত শীত মৌসুমে চা গাছ ছাঁটাই (প্রুনিং) কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কিছুদিন বাগানগুলোতে শুষ্ক পরিবেশ বিরাজ করে। চলতি বছরও প্রায় তিন মাস আগে এই ছাঁটাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছে দ্রুত নতুন পাতা গজিয়েছে, যা উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ভোরের আলো ফুটতেই ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে চা বাগানে ছুটছেন শ্রমিকরা। সারি সারি সবুজ গাছের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তারা সংগ্রহ করছেন ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’। নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণই এখানে বেশি চোখে পড়ে।
শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘ সময় গাছ ছাঁটাই ও খরার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কলসি দিয়ে গাছে পানি দিতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে নতুন কুঁড়ি বের হওয়ায় কাজে গতি এসেছে এবং উৎপাদন বাড়ার আশায় তারা উচ্ছ্বসিত।
মৌলভী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এই বৃষ্টি আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। খরার আশঙ্কা কমেছে। তবে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়লে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।”
বিজ্ঞাপন
এনটিসি মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ জানান, মার্চ মাসের এই বৃষ্টি বাগানে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। আগের ঘাটতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশীয় চা সংসদ (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, “গত বছর মে মাস পর্যন্ত তীব্র খরা ছিল। এবার আগাম বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি ভালো। সামনে পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও রোদ পেলে চা উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।”
বিজ্ঞাপন
চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজারের চা উৎপাদনে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।








