Logo

কুষ্টিয়ায় সারের দাম বাড়লেও পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ তুঙ্গে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬:৩৯
কুষ্টিয়ায় সারের দাম বাড়লেও পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ তুঙ্গে
ছবি প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার কৃষকরা চলতি অর্থবছরে পিঁয়াজ চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার মাঠে মাঠে পিঁয়াজের চারা রোপণ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে পিঁয়াজের খুচরা দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি হলেও উৎপাদনে খরচ ২৫-৩০ টাকা হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

তাই চলতি অর্থবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এ ফসল আবাদে আগ্রহ দেখা গেছে চাষিদের মাঝে। মাঠে মাঠে পিঁয়াজের চারা রোপণে ধুম লেগেছে।

তবে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রয়োজনীয় সার যেমন ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিওপি সঠিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। এছাড়া সাব-ডিলাররা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন। এতে কৃষকরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি পিঁয়াজ চাষাবাদের জন্য ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বছর জুড়ে ভালো দাম পাওয়ায় পিঁয়াজ আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে পিঁয়াজ চাষাবাদের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। জমি ভাড়া, বীজ, সার, চাষ ও পরিচর্চা বাবদ এ বছর প্রতি হেক্টরে খরচ পড়ছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, কৃষক, শ্রমিক, শিার্থীসহ নানা বয়সী ২০ থেকে ৩০ জন দলবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন।

বিজ্ঞাপন

তারা জানান, চারা রোপণের ভরা মৌসুমে শ্রমিক চরম সংকট থাকে। এ সময় শিার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের জমিতে আবার অনেকে খরচ মেটাতে ৫০০ টাকা মজুরিতে মাঠে কাজ করেন।

এ সময় লাল্টু আলী শেখ বলেন, গেল বছর ধরেই পিঁয়াজের ভালো দাম ছিল। প্রতিকেজি পিঁয়াজ ৪০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। সেজন্য মানুষ অন্যান্য চাষ বাদ দিয়ে পিঁয়াজ চাষ করছেন। কিন্তু চাহিদা মতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, তিনি তিন বিঘা জমিতে এবার পিঁয়াজের চারা রোপন করেছেন। তবে পরিমিত সার দিতে পারেননি ।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করছি। ডিলার লাইন ধরিয়ে ন্যায্যমূল্যে ১০-২০ কেজির বেশি সার দিচ্ছে না। তবে সার ডিলাররা বস্তা ধরে সার দিচ্ছে না। কিন্তু বস্তাপ্রতি ৫০০-৭০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। ভবিষ্যতে সার পাবোনা, এই ভয়ে সার ডিলারের নাম বলেননি তিনি। তার ভাষ্য, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সার ডিলারদের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে।’

বিজ্ঞাপন

যদুবয়রা ইউনিয়নের বরইচারা গ্রামের জহির হোসেনের ছেলে আবু বাদশা চলতি মৌসুমে প্রায় ১৩ বিঘা জমিতে পিঁয়াজের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, জমির ইজারা, চাষ, চারা রোপন ও পরিচর্যা বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার খরচ হয়। আর ৬০ থেকে ৭০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন হয়। তাতে পিঁয়াজ চাষ করে চাষিরা খুবই লাভবান হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিঘাপ্রতি ১০ কেজির বেশি সার দেয় না ডিলার। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে সার কেনা হচ্ছে। এতে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সারের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

আক্কাস আলী মোল্লা বলেন, প্রায় তিন বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছি। কয়েক বছর হলো সারের খুব সংকট। বেশি টাকায় সার কিনে চাষ করতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা চরম সংকটে আছে। সরকার যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

সূত্রে জানা গেছে, এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা টিএসপি সার এক হাজার ৮৫০ থেকে দুই হাজার টাকা, এক হাজার ৫০ টাকা বস্তা ডিএপি সার এক হাজার ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং এক হাজার টাকা বস্তা এমওপি সার এক হাজার ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিক্রি করছে সার ডিলাররা।

কৃষকদের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গাফফার। তিনি বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছে না সরকার। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সারের যোগান হয়নি। ফলে কৃষকদের চাহিদা মতো সার দিতে পারছে না ডিলাররা। তবে কোনো ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে না।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষ্য, সার ডিলার ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছে। এদের আইনের আওতায় আনা দরকার।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে সার বিক্রি করছিল। তাদের অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার নিয়ে ডিলাররা কোনো সিন্ডিকেট করলে তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন সরকারি দামে এবং চাহিদা অনুযায়ী সার পাই, সেই লক্ষে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD