দীঘিনালা ১৪ রমজানেও জমেনি ঈদের বাজার, ব্যবসায়ীদের হতাশা

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা-র ঐতিহ্যবাহী বোয়ালখালী নতুন বাজার-এ এবার ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রত্যাশিত কেনাকাটার পরিবেশ তৈরি হয়নি। পবিত্র রমজানের দুই সপ্তাহ পার হলেও বাজারে দেখা যাচ্ছে না ঈদের সেই চিরচেনা ভিড় কিংবা রাতভর জমজমাট বেচাকেনা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত রমজানের প্রথম দশক শেষে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে পোশাক, জুতা ও কসমেটিক্সের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে চলতি বছরে বাজারজুড়ে বিরাজ করছে নিরবতা ও অনিশ্চয়তা।
বাজারের জনপ্রিয় পোশাকের দোকান ‘বিগ স্টার’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মুন্না আজিজ বলেন, “প্রতি বছর ১০ রমজানের পর থেকেই বিক্রির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু এবার ১৩ রমজান পেরিয়ে গেলেও তেমন ক্রেতা নেই। ঈদ সামনে রেখে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পণ্য তুলেছি, কিন্তু বিক্রি আশানুরূপ নয়।”
বিজ্ঞাপন
আরেক ব্যবসায়ী মো. মোরশেদ জানান, গত বছরের তুলনায় ক্রেতা অর্ধেকেরও কম। “অনেকে বাজারে এসে দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন, কেনাকাটা করছেন না,” বলেন তিনি।
বাজারের বড় জুতার প্রতিষ্ঠান ‘তকি সু’-এর পক্ষ থেকেও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বিপুল পরিমাণ জুতা সংগ্রহ করা হলেও বিক্রি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “ঈদের আগে সাধারণত কসমেটিক্সের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সারাদিন অপেক্ষা করেও তেমন বিক্রি হচ্ছে না।”
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ক্রেতাদের ভাষ্য ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। এবার শুধু বাচ্চাদের জন্য কাপড় কিনছি, নিজেরটা বাদ দিয়েছি।”
ব্যবসায়ীদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ঈদের বাজারে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এখনো আশা ছাড়ছেন না ব্যবসায়ীরা। তাদের বিশ্বাস, রমজানের শেষ সপ্তাহ এবং চাঁদরাত ঘিরে কেনাকাটা বাড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাকি দিনগুলোতে বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে কিনা।








