Logo

মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকদের কাছে অজানা গণভোট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৩:৩২
মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকদের কাছে অজানা গণভোট
ছবি: প্রতিনিধি

গণভোট যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই তা বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ ভোটারদের কাছে। গণভোট সম্পর্কে অজ্ঞতাই এর প্রধান কারণ। মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকই জানেন না গণভোট কী, কিংবা কীভাবে এতে ভোট দিতে হয়।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চতুর্থ গণভোট। ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই স্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করলেও তা মূলত জেলা শহরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে চা বাগানের শ্রমিক ও প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ ভোটাররা গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, গণভোটে কী বিষয়ে ভোট হবে কিংবা ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট কীভাবে দিতে হবে—এ সম্পর্কেও অধিকাংশ চা শ্রমিক অবগত নন। অনেকেই না বুঝেই ভোট দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বিজ্ঞাপন

সরকার দেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন ও গাড়িযোগে প্রচারণা চালালেও মৌলভীবাজারে তা সীমাবদ্ধ রয়েছে শুধু শহর এলাকায়। এতে চা বাগান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ গণভোট সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

ইতিহাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট, রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে। স্বাধীনতার পর মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে চতুর্থবারের মতো গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণভোট নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা বা বিতর্ক না থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রেমনগর চা বাগানের শ্রমিক সুমন কর্মকার বলেন, ‘শুনেছি এমপি নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও হবে। কিন্তু কীভাবে কী করতে হবে, কিছুই জানি না।’

চা বাগানের নারী ভোটার নন্দিতা রবিদাস বলেন, ‘আমরা কখনো গণভোট দেইনি। “হ্যাঁ” বা “না” ভোট কীভাবে দিতে হবে, তা কেউ আমাদের জানায়নি।’

বিজ্ঞাপন

৪৫ বছর বয়সী নারী শ্রমিক জয়ন্তী রবিদাস জানান, ‘আগে কখনো গণভোট দিইনি। কীভাবে দেব, বুঝতেও পারছি না। কেউ শেখায়ওনি। তাই চিন্তায় আছি।’

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই প্রচারণা পিআইবি থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এখনো চা বাগান এলাকায় প্রচারণা শুরু হয়নি।’

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘নিরক্ষর ভোটাররা যেন “হ্যাঁ” ও “না” বুঝতে পারেন, সে জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। ব্যালটে স্পষ্ট মার্কিং থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটারদের সচেতন করবেন।’

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD