মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সংবাদ বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিক ইউনিয়নের

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের সব ধরনের সংবাদ ও কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধনপ্রাপ্ত সিলেট বিভাগের একমাত্র সংগঠন মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন (রেজি নং–মৌল-০৩৮)। পুলিশ সুপারের আয়োজিত একাধিক সংবাদ সম্মেলন ও সরকারি আয়োজনে সাংবাদিক ইউনিয়নকে উপেক্ষা করার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
সাংবাদিক ইউনিয়নের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা অভিযোগ করেন, পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো পরিচিতিমূলক সভা আয়োজন করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত অনেক পেশাদার সাংবাদিক জেলা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও তথ্যসংগ্রহের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটির দাবি, জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও জনগুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এসব তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের সুযোগ কেবল কিছু নির্দিষ্ট সাংবাদিক নেতা ও পছন্দের কয়েকটি মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।
একাধিক স্থানীয় সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মাঠে কাজ করি, ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করি। অথচ অফিসিয়াল কোনো কর্মসূচি হলে দেখি, আমাদের বাদ দিয়ে পরিচিত কয়েকজন মুখই সেখানে উপস্থিত থাকেন। এটা শুধু ব্যক্তিগত অবহেলা নয়, পেশাগত বৈষম্য।”
তাদের মতে, এটি সংবিধানস্বীকৃত সাংবাদিকতার সমান অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী।
বিজ্ঞাপন
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, প্রেস কনফারেন্স বা সরকারি কর্মসূচি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। এসব আয়োজন রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য, যেখানে সকল কর্মরত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকের সমান প্রবেশাধিকার থাকা উচিত। নির্দিষ্ট তালিকা করে আমন্ত্রণ জানালে স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে।
এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, “সাংবাদিক নেতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সাংবাদিকতা শুধু পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যারা মাঠে নেমে কাজ করেন, তারাও সমানভাবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য।”
বিজ্ঞাপন
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই ধরনের বৈষম্য চলতে থাকলে প্রকৃত তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তাদের সুপারিশ—জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচিত সকল কর্মরত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা এবং সব কর্মসূচির তথ্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে জানানো, যাতে কোনো গ্রুপিং বা পক্ষপাতের অভিযোগ না ওঠে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) নবেল চাকমা বলেন, “সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে বসেন। আমরা প্রেসক্লাবকেই চিনি। এর বাইরে অন্য কোনো সাংবাদিক সংগঠনকে আমরা চিনি না।”
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। আমরা দুইটি প্রেসক্লাবকে দাওয়াত দিয়েছি। মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।”
সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে জেলা পুলিশের সব ধরনের সংবাদ ও অনুষ্ঠান বয়কট অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার কথাও জানিয়েছেন তারা।








