মৌলভীবাজারে ঘন কুয়াশা ও শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা সামান্য বেড়লেও ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষজন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন। এতে জেলাজুড়ে শীতের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গরম কাপড়ের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনগুলো ফগ লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। সূর্যের দেখা না মেলায় হিমেল বাতাসে মানুষ কাবু হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শীতকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষজন। জীবিকার তাগিদে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে তাদের। এরই মধ্যে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে।
কাজের প্রয়োজনে শহরে আসা শরিফ ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ছে। ভোরে কাজে বের হওয়া খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে? কয়েক স্তর কাপড় পরেও ঠাণ্ডা লাগছে।’
বিজ্ঞাপন
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সাগর আলী বলেন, ‘সোয়েটার আর জ্যাকেট পরেও শীত যাচ্ছে না। তার ওপর রাস্তায় যাত্রীও কম। শীতের মধ্যে কাজ করতেও ভালো লাগে না।’
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ‘এটি চলতি শীত মৌসুমে শ্রীমঙ্গলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতা প্রায় শতভাগ রয়েছে।’








