শরীয়তপুর-৩ আসনে রাজনৈতিক মোড়, ইসলামী আন্দোলনের একক অবস্থান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর-৩ (গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জের আংশিক) আসনে নতুন রাজনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ফলে ১১ দলীয় জোট 'ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ' ভেঙে পড়েছে, যা এ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এখন ১০ দলীয় জোট গঠিত হতে যাচ্ছে, যা ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আসনভিত্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে।
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে ১০টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি যোগ দেননি। ফলে দলটির জন্য ৪৭টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়, যার মধ্যে শরীয়তপুর-৩ আসনও অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত না হয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আমরা আমাদের নিজস্ব প্রার্থী এবং সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই নির্বাচনী মাঠে থাকব।”
এ সিদ্ধান্তের ফলে জামায়াতে ইসলামীকে নতুন করে ১০ দলীয় জোট গঠন করতে হচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জোট ভাঙার প্রভাবে শরীয়তপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম ১০ দলীয় জোটের পক্ষে লড়াই করবেন, যখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মিয়া স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু এলাকায় সক্রিয় গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “শুধুমাত্র তারুণ্যের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হউক।” তার সমর্থকগোষ্ঠীর ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “শুভকামনা ইসলামী আন্দোলন। সকল কর্মী ও সমর্থক সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে চলুন। জামায়াত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ – বাস্তব মাঠে সক্রিয় অংশ নিন, অনলাইনে ঘৃণার চর্চা নয়। এখন সময় লড়াইয়ের, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার। ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’। ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তিনটি শক্তির সমন্বিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা ও আগ্রহ বাড়াচ্ছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি প্রার্থীর প্রচারণা নির্বাচনী ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শরীয়তপুর-৩ আসন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নয়, বরং রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করছে, যা সারা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকেও প্রভাবিত করতে পারে।








