মৌলভীবাজারে ঐতিহ্যের স্বাদে ৭শ বছরের ভাতের মেলা

মৌলভীবাজারের ভাতের মেলা (সাদা ভাতের মেলা) প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা মূলত হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.) মাজারকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ভক্তরা মানত হিসেবে সাদা ভাত ও ক্ষীর রান্না করে মাজারে জমা দেন এবং তা শিরনি হিসেবে বিতরণ করা হয়, এই মেলা কেবল ধর্মীয় নয়, বরং লোকসংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এক মিলনক্ষেত্র, যেখানে বিভিন্ন পসরা বসে এবং লোকজ সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, প্রতি বছর মাঘ মাসের প্রথম বুধবার জেলার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনায় হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.) মাজার ঘিরে জমে ওঠে এ মেলা। প্রায় ৭০০ বছর ধরে এখানে ওরুসে আগত ভক্তদের মাঝে সাদাভাত আর ক্ষীর শিরণী বিতরণ করা হয়।
পীরসাব জীবিত থাকা অবস্থায় এখানে গরু শিরণী করা হতো। তখন এক চোর গরু এনে বিক্রি করেছিল। গরু জবাই করে শিরণী তৈরির প্রস্তুতি নেয়াকালে গরুর মালিক এসে শিং ও চামড়া দেখে তার গরু দাবী করলে পীরসাব বললেন, তুমি বাড়ি চলে যাও। তোমার গরু হলে বাড়িতে যাবে। পীরসাব গরুর হাড়, চামড়া, শিং একত্র করে বললেন, তোমার মালিক তোমাকে খোজছে। তুমি তোমার বাড়ি যাও। তখন মালিকের পিছন পিছন গরুও বাড়িতে ফিরে যায়। তখন থেকে পীরসাব সবাইকে বললেন এখানে আর কখনো যেন শিরণীতে যেন রক্তওয়ালা কোন কিছু জবেহ করা না হয়। তখন থেকে এলাকার লোকজনেরা বাড়িতে সাদাভাত, সাদা পোলাও, ক্ষীর তৈরি করে নিয়ে আসেন।
বিজ্ঞাপন
এদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছোট-বড় হাঁড়ি-পাতিল ভর্তি সাদাভাত আর ক্ষীর নিয়ে হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.) মাজারে আসেন এবং মাজারের পাশে রাখা বড় দুটি পাত্রে তা সংগ্রহ করা হয়। পরে সুশৃঙ্খলভাবে সেসব খাবার ‘শিরনি’ হিসেবে হাজার হাজার নারী-পুরুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
দর্শনার্থীরা জানান, এখানে যেকোন নেক নিয়ত করে আসলে আল্লাহর রহমতে নিয়ত কবুল হয়। এর অনেক ফল আমরা পেয়েছি। তাই প্রতিবছর সাদাভাতের মেলায় আসি।
বিজ্ঞাপন
হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.) মাজারের মোতাওয়াল্লী মো. আজাদ মিয়া জানান, সকাল থেকেই মাজারে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ছোট বড় হাঁড়ি-পাতিল ভর্তি সাদাভাত আর ক্ষীর নিয়ে ছুটে আসছেন। মাজার সংলগ্ন বিশাল বড় দু’টি স্থায়ী পাকা পাত্রে শিরণী সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিরণী মিশ্রণে ব্যস্ত স্বেচ্ছাসেবকরা।








