নির্বাচনে সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থানে নৌবাহিনী

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। বিশেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেন এই এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য জোরদার করা হয়েছে টহল ও নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলছে ফুট পেট্রোলিং ও সতর্কতামূলক প্রচারণা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফে নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা টেকনাফ। অবৈধ অস্ত্র, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছিল বাড়তি উদ্বেগ। সেই উদ্বেগ দূর করতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। প্রতিদিন টেকনাফ পৌর এলাকা, প্রধান সড়ক ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম। এর পাশাপাশি ফুট পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস, নাশকতা ও অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধে চালানো হচ্ছে সতর্কতামূলক প্রচারণা।
বিজ্ঞাপন

নৌবাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি।
কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় নৌবাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচার রোধে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। এর ফলে নৌবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে স্বাভাবিক রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঈনুল হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নৌবাহিনী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি জানান, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য নৌ সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আইনানুগ নির্দেশনা ও আচরণবিধি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, সোয়াডস টিম, ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান ও আইনের আলোকে অর্পিত দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
নির্বাচন ঘিরে নৌবাহিনীর এমন তৎপরতা ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দিচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।








