হাতপাখার নারী কর্মীদের ওপর জামায়াতের হামলা, আহত ৩

ভোলা-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ইসলামী আন্দোলনের অন্তত তিন নারী কর্মী আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে চরফ্যাশন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
জানা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের পক্ষে সকালে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন তাঁর মেয়ে মারিয়া কামালসহ কয়েকজন নারী কর্মী। এ সময় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা কামালের কয়েকজন কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচারণা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের দুই কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন দলবদ্ধভাবে হাতপাখা প্রতীকের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে তিনজন আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে মারিয়া কামাল বলেন, তিনি তাঁর দুই ভাইসহ ৭ থেকে ৮ জন নারী কর্মী নিয়ে সকাল ৯টার দিকে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় জামায়াতের কর্মীরা তাদের এলাকা ছাড়তে হুমকি দেন এবং পরে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কামাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নারী কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে নির্বাচনি পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে নাম আসা জামায়াতের দুই কর্মী ঘটনার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ মীর মো. শরিফ বলেন, যদি আমাদের কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তারা পারস্পরিকভাবে বিষয়টি সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।








