রাউজানে নলকূপে আটকে পড়া শিশু উদ্ধার, নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার রাতে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে শিশুটিকে গর্ত থেকে বের করা সম্ভব হয়। এর আগে বিকেলের দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নলকূপের একটি খোলা গর্তে পড়ে যায় মিসবাহ। সে ওই এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সন্তান।
রাউজান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সামশুল আলম জানান, শিশুটি প্রায় ৩০ ফুট গভীর গর্তে আটকে ছিল। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিশেষ উদ্ধারযন্ত্র ব্যবহার করে গর্তের চারপাশে মাটি কেটে ধীরে ধীরে শিশুটিকে বের করে আনা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইটের আলো ফেলে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে গাছের ডাল ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। তবে পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় পরে পেশাদার উদ্ধারকর্মীরাই দায়িত্ব নেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে এলাকাবাসীর মধ্যে। উদ্ধার শেষে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, নলকূপের গর্তে শিশু পড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপে পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল এবং দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
রাউজানের এই ঘটনায় শিশুটির জীবিত উদ্ধার হওয়াকে অনেকে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে খোলা নলকূপ ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত দ্রুত নিরাপদ করার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে।








