জামিননামা ছাড়াই হত্যা মামলার তিন আসামির মুক্তি, ময়মনসিংহে চাঞ্চল্য

ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই তিনটি হত্যা মামলার তিন আসামিকে মুক্তি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। মুক্তি পাওয়া আসামিরা হলেন তারাকান্দা থানার তাররাটি পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মো. আনিছ মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম। তারা চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর সংঘটিত একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই তিনজন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। প্রডাকশন ওয়ারেন্টকে ভুলবশত জামিননামা মনে করে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, এটি অসতর্কতাবশত ঘটে যাওয়া একটি ভুল। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ভর্তি শাখার অসতর্কতার কারণেই এই ‘ভুলমুক্তি’র ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পলাতক আসামিদের পুনরায় গ্রেপ্তারে র্যাব ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে স্থানীয় মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে এ ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি মহল কারা ব্যবস্থাপনাকে দুর্বল করে ফেলেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের ভেতরে ও জেল গেটে অবৈধ লেনদেন ও ‘ব্যবসা’ চালু হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা না দিলে ভয় দেখিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
তারা আরও দাবি করেন, এই ঘটনার পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের ভেতরের কোনো যোগাযোগ বা সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা কারা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।








