১০ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি জয়ন্তুপুর ঘাট সেতু

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন জয়ন্তুপুর ঘাট সেতু এক দশক পেরিয়েও সম্পূর্ণ না হওয়ায় রংপুর ও আশপাশের জেলার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাজুড়ে হতাশা ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
সরকার ২০১৫ সালে করতোয়া নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে ২০১৯ সালে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তবে ঠিকাদারের মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলে ২০২৪ সালে পটুয়াখালীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজের দায়িত্ব পায়।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সেতুর প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে গার্ডার শাটারিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু না হলে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন যাতায়াতে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নদীপথে বিকল্প চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পি জানান, সেতুর মূল কাঠামোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন সংযোগ সড়কের কাজ বাকি। ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান করা গেলে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণের সমস্যা সমাধান করে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা না হলে দুই জেলার লাখো মানুষকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে।








